কালিহাতীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ ॥ মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র

150

Tangail_Pic-_15-11-15স্টাফ রিপোর্টারঃ
যৌতুকের দাবিতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ঘড়িয়া গ্রামের পারুল আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নাসির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে। পারুলের পিতা কদ্দুছ মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। কিন্তু মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নাসির উদ্দিন বাবু ও একই এলাকার কদ্দুছ মিয়ার দশম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে পারুল আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পারিবারিকভাবে অসম্মতি জানালে তারা দুইজনে গত ২০১২ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন। পারুলকে না পেয়ে তার পিতা কদ্দুছ মিয়া গত ২০১২ সালের ৩১ মে কালিহাতী থানায় একটি জিডি (১১৮৭ নং) করেন। পরবর্তীতে পারুলের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন নববিবাহিতরা আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় দন্দকলহ। স্বামী নাসির উদ্দিন যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত পারুলে উপর চালাতে থাকে নিষ্ঠুর, নির্মম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী পারুল গ্রামে চলে আসেন। নাসির গ্রামে এসে তার স্ত্রীকে ফেরত নিতে চাইলে পারুল অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশে অত্যাচার না করার শর্তে মীমাংসা করে পারুলকে নাসিরের নিকট তুলে দেয়া হয়। কিছুদিন পর মেয়ে পারুলকে দেখার জন্যে কদ্দুছ মিয়া আশুলিয়ায় গেলে তাকে না পেয়ে ফিরে আসেন। তিনি আবার গত ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ভাড়া বাসায় গিয়ে নাসির উদ্দিনকে পারুলের কথা জিজ্ঞাস করলে সে জানায় পারুল বাসায় নেই। কোথায় গেছে, কবে গেছে এসব প্রশ্নের কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় কদ্দুছ মিয়া আশেপাশে বিভিন্নস্থানে মেয়ে পারুলের খোঁজখবর নেয়। কিন্তু পারুলের কোন হদিস না পেয়ে কদ্দুছ মিয়া গত ২০১৫ সালের ৪ আগষ্ট টাঙ্গাইল কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পারুলের স্বামী নাসির উদ্দিন বাবু, শাশুড়ী অজুফা খাতুন এবং আব্দুল হাকিমকে আসামী করে। মামলা করার পর থেকেই নাসির উদ্দিন পলাতক রয়েছে।
পারুলের বাবা কদ্দুছ মিয়া বলেন, ওরা আমার মেয়েরে মাইরা ফালাইছে। আবার হত্যাকারীরা বাঁচার জন্য আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেছে। এদিকে মামালার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার তৎকালীন এসআই ছলিম উদ্দিন প্রতিবেদনে পারুল নিখোঁজ হয়েছে তথ্য প্রদান করলে বাদী নারাজি আবেদন করেন। অভিযোগ আছে, এসআই ছলিম বাদীর নিকট মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেছিল। এরপর মামলার তদন্তের দায়িত্ব আদালত ডিবির কাছে হস্তান্তর করলে ডিবির এসআই আমিনুল ইসলাম একই ধরনের প্রতিবেদন প্রদান করেন। ফলে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকা করছেন বাদীপক্ষরা।
কালিহাতীর ঘড়িয়া গ্রামের নাসিরের প্রতিবেশি শিক্ষিকা নাসিমা বেগম বলেন, পারুলের স্বামী, শ^াশুড়ি ও বোনেরা এক সাথে মিলেমিশে বাড়ির গেট বন্ধ করে পারুলের উপর নির্মম মারপিট করত। আমরা প্রতিবেশিরা বাড়ির বাইরে থেকে কান্না, চিৎকারের শব্দ শুনতে পেতাম। কিন্তু খারাপ লাগলেও বাড়ির ভেতরে যেতে পারতাম না। এছাড়া পারুলকে ২-৩ দিন পর্যন্ত খাবার  দেয়া হতো না। গ্রামের মাতাব্বর মোহাম্মদ আলী মেম্বার ও শহর আলী জানান, যৌতুকের দাবিতে পারুলকে অত্যাচার করায় তারা একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ করেছেন। নাসিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। নাসিরের মা আসামী অজুফা খাতুন হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারুল নিখোঁজ হয়েছে। আমার ছেলে কোথায় থাকে আমি জানি না। পারুল পূর্বেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে প্রতিবেশীরা জানান,  নাসির রাতে রাতে বাড়িতে আসে এবং দ্রুত বিদেশে যাবার জন্য চেষ্টা করছে। পারুলের মা মরিয়ম বেগম বলেন, যৌতুকের জন্য ওরা আমার মেয়েরে না খাওয়াইয়া মারতে মারতে মাইরা ফালাইছে। আমরা গরিব মানুষ তাই কি বিচার পামু না। খুনিদের ফাঁসি হইলে আমি শান্তি পামু।
নাসিরের পাশের বাড়ির কলেজ পড়–য়া আরেকটি মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। বিয়ের দাবিতে মেয়েটি নাসিরের বাড়িতে গিয়ে উঠলে নাসির বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মেয়েকে তাড়িতে দেয়। পরে ওই মেয়ে অপমান সইতে না পেরে গত ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি গোপনে ধামাচাপা দেয়া হয়। এসব ঘটনায় গ্রামবাসি লম্পট খুনি নাসিরের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ