কালিহাতীতে ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে জামাই ফারুকের রমরমা মাদক ব্যবসা

738

সোহেল রানা, কালিহাতী ॥
সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। ঠিক সেই সময়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার হামিদপুর-উত্তর কালিহাতী এলাকার একাধিক মাদক মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক সম্রাট জামাই ফারুক (৪৫) ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে রমরমা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। মাদক সম্রাট জামাই ফারুকের বাড়ি জামালপুর জেলায়। বর্তমানে কালিহাতী পৌরসভার উত্তর কালিহাতী সওদাগর পাড়ায় তার শ^শুর বাবু সওদাগরের বাড়িতে বসবাস করে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কুখ্যাত এ মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশাসন গ্রেপ্তার না করায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, কুখ্যাত মাদক সম্রাট জামাই ফারুক ওই এলাকার সেলিম সওদাগরের সেল্টারে বর্তমানে কালিহাতী উপজেলার হামিদপুর, উত্তর কালিহাতী, উত্তর সালেংকা, উত্তর বেতডোবা, কর্মকার পাড়া, ধোপাবাড়ি নদীর ঘাট, কালিহাতী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন নদীর ঘাট, হামিদপুর চিত্রবাণী সিনেমা হল রোড, হামিদপুর গোডাউন রোড, ঘাটাইল উপজেলার কাঁশতলা রোড, হামিদপুর ব্রিজ পাড়, কালিহাতী পুরাতন থানা এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছদ্মবেশ ধারণ করে ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবা বিক্রয় করছে। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে প্রতিনিয়ত যুবকরা মাদক সেবনের জন্য ছুটে আসে মাদক ব্যবসায়ী জামাই ফারুকের কাছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে এই কুখ্যাত মাদক সম্রাট জামাই ফারুক উত্তর বেতডোবা ফাতেমা হালিম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (সাবেক সওদাগর পাড়া) মাদকের হাট বসিয়ে রমরমা মাদকের ব্যবসা করে আসছিল। পরে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে হামিদপুর সওদাগর পাড়ার ওই মাদকের হাট আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। পরে করোনা ভাইরাসের কারনে সম্প্রতি সারা দেশে যখন লকডাউন ছিল তখন করোনার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী জামাই ফারুক কালিহাতী পৌরসভার উত্তর কালিহাতী গ্রামে তার শ^শুর বাড়িতে পাড়ি জমিয়ে ফের এ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় জনগন টিনিউজকে জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ফারুক পুনরায় এ ব্যবসা শুরু করেছেন। হাত বাড়ালেই মাদকের দেখা পাওয়ায় কালিহাতী উপজেলাসহ কালিহাতী পৌর এলাকার উঠতি বয়সের তরুনরা নেশার দিকে ঝুকে পড়ছে। আমাদের উত্তর কালিহাতী গ্রামে কিছু যুবক ও ১৩ সদস্যের গ্রাম কমিটির মধ্যে ৭-৮ জন মিলে ইতিপূর্বে জামাই ফারুকের এ মাদক ব্যবসা বন্ধের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা অজানা কারনে থেমে যায়। উপজেলার প্রায় সর্বত্রই ফারুকের এ মাদক ব্যবসা সয়লাভ হলেও এগুলো যেন দেখার কেউ নেই। যারা বন্ধ বা প্রতিরোধ করবে তারাই ফারুকের কালো টাকায় বিক্রি হয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। মাদক সেবনকারীদের উৎপাতে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। দিন দিন মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিই পাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুখ্যাত মাদক সম্রাট জামাই ফারুকের মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিবাদ করলে সে উল্টো এলাকার মানুষকে হুমকি দিয়ে বলে, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার হাতে। আমি পুলিশ, ডিবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করেই ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রি করি। বেশি কথা বললে মাদক বাড়িতে রেখে জেলখানায় ঢুকিয়ে দিব। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার হুমকির মুখে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সওগাতুল আলম টিনিউজকে জানান, কালিহাতী পৌর এলাকায় জামাই ফারুক মাদক ব্যবসা করছে বলে শুনেছি। মাদক ব্যবসায়ী ধরা ছোয়ার বাইরে এমন কোন ব্যবসায়ী থানা এলাকায় থাকবে না। এ এলাকায় কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আশা করি দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ