কালিহাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের শিকার ওয়ারিশগণ

95

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পৈত্রিক জমিতে যাওয়ায় মারধরে শিকার হন ওয়ারিশগণ। উপজেলার ভুক্তা এলাকায় ঘটেছে এমন ঘটনা। ভুক্তা এলাকার ফজলুল হক তালুকদারের ছেলে জহিরুল হককে প্রতিবেশি খোরশেদ তালুকদার, পলাশ, রাশেদ ও সাদ্দামসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে। মারধরের ঘটনায় এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি।

মামলা সুত্রে জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার ভুক্তা গ্রামে ফজলুল হক তালুকদারের দুই ছেলে টি.এম. নাজমুল হক ও জহিরুল হক ঢাকা বসবাস করার কারণে গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি দেখাশুনা করতে পারেনি। সেই সুযোগে প্রতিবেশি আব্দুল কাদের তালুকদার তার পাশের ফজলুল হক তালুকদারের জমির মাটি নিয়ে নিজের বাড়ি তৈরি করে। এ বিষয়ে গ্রাম্য শালিসী বসে মাটি পুনরায় ভরাট করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মাটি ভরাট করে দেননি। মাটি নেয়া ছাড়াও ফজলুল হক তালুকদারের জমি দখল করে নির্মাণ করেছে বাড়ির দেয়াল। দেয়াল নির্মাণ নিয়ে ফজলুল হক তালুকদারের দুই ছেলের সাথে প্রায় কথা কাটাকাটি হয়। ফজলুল হক তালুকদারের দুই ছেলে তাদের সম্পত্তিতে একটি বসত ঘর স্থাপন করলে বেড়ে যায় ঝগড়ার মাত্রা। ঝগড়া থেকে এ বছরের ১৪ জুন ফজলুল হক তালুকদারের এক ছেলে জহিরুল হককে পিটিয়ে আহত করে। তারপর থেকে সকলেই বাড়ি ছাড়া।

এ দিকে মামলার তদন্তের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই মারধর করতে আসে বিবাদী পক্ষ। এ বিষয়ে মামলার বিবাদীর বাড়িতে গেলে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ফজলুল হক তালুকদারের দুই ছেলেকে মারতে আসে।
আহত ফজলুল হক বলেন, আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার আসার সময় কাদের তালুকদারের বাড়ির গেটের সামনে আসলে তার ছেলেরা আমাকে লাঠি দিয়ে ৫০-৬০ টা বাড়ি দিছে। পরে আমি দৌড়ে গিয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিলে আব্দুল কাদের তালুকদারসহ তার ছেলেরা সেখানেও এসে আমার উপর আক্রমণ চালাতে চায়। এক পর্যায় আশে পাশের লোকজন এসে তাদের হাত থেকে আমাকে বাঁচিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তারপর থেকে আমি আমাদের বাড়িতে থাকতে পারছিনা।

মামলার বাদি নাজমুল হক বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারি নিয়ে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি। মামলা নং- ১৯, তারিখ : ১৭/০৬/২০২২ইং। মামলার করার পর থেকেই আমরা আমাদের বাড়িতে থাকতে পারছি না। সেই বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে অবহিত করেও কোন সুরাহা পাইনি। কালিহাতী থানা পুলিশদের বিষয়টি অবহিত করার পর আমাদের বাড়িতে এসে তাদের বলা মাত্রই পুলিশের সামনেই আমাদের মারতে আসে। তারপর পুলিশ আমাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে। আমরা সেদিন চলে আসার পর নিরাপত্তার কারণে আমাদের বাড়িতে থাকতে সাহস পাচ্ছি না।

ব্রেকিং নিউজঃ