কালিহাতীতে আশ্রয়ন প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাৎকারিদের নামে থানায় জিডি

263

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেয়ার নামে প্রতারণা করে নিরীহ লোকদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পায়। এরই পেক্ষিতে কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন কালিহাতী থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার সিংগুরিয়া বাজারে সুন্দর, পরিপাটি অফিস বানিয়ে পরেশ ও নিমাই চন্দ্র দাস নামের ব্যক্তিদ্বয় প্রতারণা করে এলাকার দরিদ্র অসহায়দের অফিসে ডেকে এনে আশ্রয়ন প্রকল্পের সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকারি পাকা ঘর পাওয়া ও আগে ঘর পাওয়ার লোভে স্থানীয় শতাধিক ব্যক্তি ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতারকচক্রের হাতে তুলে দেন। আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর দেয়ার প্রলোভনে শতাধিক লোকের কাছ থেকে পরেশ ও নিমাই চন্দ্র দাস প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভূক্তভোগীদের কাছে বিশ্বাস জন্মাতে তারা কৌশলী ভূমিকা নিয়ে, নামমাত্র ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয়রা প্রতারকদের প্রতি বিশ্বাস রেখে কার আগে কে টাকা দিয়ে আগে ঘর পেতে পারেন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে অতিদ্রুত প্রতিশ্রুত টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতারক চক্র গাঁ ঢাকা দিলেও গোপনে স্থানীয়দের কৌশলে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সিংগুরিয়া বাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল লতিফ সরকার টিনিউজকে জানান, শ্যামল এ বাজারের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি তাকে চিনি। সে অসহায়-গরীবদের সরকারী পাকাঘর পেতে স্থানীয় কতিপয় লোকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কয়েকদিন আগে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বাজারে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। পরে বাজার বণিক সমিতির মাধ্যমে তাদের অফিস ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বণিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুসারে যাদের নিকট থেকে প্রতারণা করে টাকা নেয়া হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে তাদের টাকা ফেরত দিলে তালা খুলে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেহাব উদ্দিন টিনিউজকে জানান, বিষয়টি জানার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ