কালিহাতীতে আ’লীগের গলার কাটা বিদ্রোহী ॥ বিএনপির দাবি সুষ্ঠু ভোট

218

স্টাফ রিপোর্টার ॥
চতুর্থ ধাপে আগামি (১৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচন। এ পৌরসভার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা শেষ মুর্হুতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় সময় পার করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নানা কৌশলে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমান তালে চলছে মিটিং-মিছিল আর পথসভা। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন প্রার্থীরা। পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছেন। রয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর প্রচারণায় বাঁধা, মাইক ভাংচুর, রাতের আঁধারে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও হামলার অভিযোগও।
৯টি সাধারণ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কালিহাতী পৌরসভা। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন মেয়র প্রার্থী। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুন্নবী সরকার, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলী আকবর জব্বার এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের হুমায়ুন খালিদ।
প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ নতুন নতুন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অত্যাধুনিক নাগরিকসেবা সম্পন্ন ডিজিটাল পৌরসভা গঠনের অঙ্গিকার রয়েছে তাদের। এছাড়াও পৌরসভার পানীয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী।
সরেজমিনে জানা যায়, কালিহাতী পৌরসভায় মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নৌকার প্রার্থী নুরুন্নবী সরকার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। ৭জন মনোনয়ন প্রার্থীর মধ্যে তিনি নৌকার মাঝি হয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারির আশির্বাদও রয়েছে তার উপর। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ উপজেলার নেতৃবৃন্দ এ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে মিটিং, মিছিলসহ সভায় অংশ নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নুরুন্নবী সরকার টিনিউজকে জানান, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নৌকার ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামি (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর কল্যাণ এবং শান্তির জন্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত ও পরিকল্পিত পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করবেন।
বিএনপি প্রার্থী, বর্র্তমান মেয়র ও কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আকবর জব্বার টিনিউজকে জানান, অধুনালুপ্ত কালিহাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর প্রশাসক ও দুই বারের নির্বাচিত মেয়র। তিনি দীর্ঘদিন পৌরবাসীর সেবা করেছেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। করোনাকালে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়াসহ নগদ অর্থ সহায়তাও দেয়া হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলে তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার কর্মীসমর্থকরা উগ্রতা ও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। ধানের শীষের প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন, মাইক ভাংচুর করছে, মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগ দিলেও রিটার্নিং অফিসার কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হবে এমনটা আশা করা বাতুলতা মাত্র। তবুও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলেও জানান তিনি।
অপর দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী হুমায়ুন খালিদ টিনিউজকে জানান, বর্তমানে বহিষ্কৃত হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন তিনি। তিনি সৎ আর আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক ত্যাগী নেতারা প্রকাশ্য ও গোপনে তার পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়া পৌরসভায় তার বংশের আধিক্য বেশি। নিকটাত্মীয় ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে তিনি সব ধরণের মানুষের কাছে পছন্দের প্রার্থী। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হলে তাকে পরাজিত করার শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর নেই। সততা ও ন্যায়-নীতির কারণে ভোটাররা তাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।
কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা টিনিউজকে জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা ও গাড়ি ভাংচুরের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে গত (১ ফেব্রুয়ারি) একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি ফৌজদারী কার্যবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিধায় তিনি থানার পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামি (১৪ ফেব্রুয়ারি) এই পৌরসভায় সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ, চতুর্ধ ধাপে অনুষ্ঠেয় কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩জন, ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ১০জন, আর ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামি (১৪ ফেব্রুয়ারি) পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রে মোট ২৮ হাজার ৬৫৫জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৬৩৯ জন আর পুরুষ ১৪ হাজার ১৬ জন।

ব্রেকিং নিউজঃ