কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্ত নেতাকর্মীরা

79

03_12_15_08_46_432015280035823shবিশেষ প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম পর্যায়ে উঠেছে। বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলীয় নেতাকর্মীরা। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দল থেকে বহিস্কার হওয়ার পর কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের কোন্দল প্রকট হয়ে উঠেছে। তার প্রভাব পড়েছে পৌর নির্বাচনে। লতিফ সিদ্দিকীর অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ। এছাড়া দলীয় সমন্বয়হীতা, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর নিস্কৃয়তা ও পুলিশ প্রশাসনের বৈরী আচরণের কারণেও আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী আনছার আলী বিকম হেরেছেন বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। টাঙ্গাইলের আটটি পৌরসভায় ৭টিতেই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী জয় পেলেও শুধু কালিহাতীতে নেতাদের বিভক্তির কারণে নৌকার পরাজয় হয়েছে। এখানে আগামী সংসদ উপ-নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
গত ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র মনোনয়ন পান দলের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম। মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন হুমায়ুন খালিদ। নির্বাচনে বিএনপি মেয়র প্রার্থী আলী আকবর জব্বার ৯ হাজার ১৯৫ ভোট ও আনছার আলী বিকম ৭ হাজার ৪৪৪ ভোট ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন খালিদ পান ১ হাজার ৬০৯ ভোট পান। আনছার আলীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ও প্রশাসন আমাকে ফেল করিয়েছে। সরাসরি নাম ধরে তিনি বলেন, যুবলীগের সভাপতি নুরনবী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আনোয়ার বাবুল ও আসলাম সিদ্দিকী ভুট্রো বিরোধীতা করেছে। সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি প্রার্থী সোহেল হাজারী আমার সাথে থাকলেও আন্তরিক ছিলেন না। গোপনে বিরোধীতা করেছেন। তার কোন লোক আমার নির্বাচন করেনি। এছাড়াও কালিহাতী থানার ওসি (তদন্ত) বদরুল আলম কয়েকটি কেন্দ্রে আমার কর্মিদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। কারো দ্বারা প্রশাসন প্রভাবিত হয়ে এ কাজ করেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর সাথে উপ-নির্বাচনে এমপি প্রার্থী সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল হাজারীর রয়েছে চরম বিরোধ। দলের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী সভাপতির অনুসারী। এ কারণে সোহেল হাজারীর সাথে একটা দুরত্ব রয়েছে। এছাড়াও সোহেল হাজারী উপ-নির্বাচনে এমপি মনোনয়ন পাওয়ায় ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বিরাজ করছে ঠান্ডুর অনুসারীদের মধ্যে। উপ-নির্বাচনে সোহেল হাজারীর পক্ষে ঠান্ডুর অনুসারীরা ওইভাবে কেউ মাঠে নামেনি। আদালতের নির্দেশে ওই নির্বাচন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত হয়ে রয়েছে। পৌর নির্বাচনে সুযোগ আসে সোহেল হাজারীর অনুসারীদের। তারা পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন খালিদের পক্ষে কাজ করে বলে জানান, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক তালুকদার বলেন, সবাই প্রকাশ্যে নির্বাচন করলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ছিল। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে পৌর নির্বাচনে।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরনবী সরকার জানান, কালিহাতীতে মোজাহারুল ইসলাম ঠান্ডু ও আনছার আলী দীর্ঘ এক যুগ ধরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করে রয়েছে। দলের মধ্যে ও সাধারণ জনগণের কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতার অনেক ঘাটতি রয়েছে। এছাড়াও যারা মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। তাদের সাথে বৈঠকে না বসে সভাপতি একঘুয়েমি করেছে। এটাও দলীয় প্রার্থীর হারের অন্যতম কারণে বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বলেন, আমাদের প্রার্থীর অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল ছিল না। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন আমাদের বিপক্ষে কাজ করেছে। স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন অফিসার বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। নাম প্রকাশ না করে বলেন, দলের অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় আমার হেরেছি।
কালিহাতীতে আগামী সংসদ উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সোহেল হাজারী বলেন, দলের কারো সাথে আমার বিরোধ নেই। মেয়র প্রার্থী আনছার আলীর পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছি। যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলে বরঞ্চ তারাই ঘরে বসে ছিল। কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, জনরোষের ভয়ে তারা বের হননি। কি কারণে দলীয় প্রার্থী ফেল করল সভাপতির কাছেও আমার এ প্রশ্ন।

ব্রেকিং নিউজঃ