বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2020
Home এক্সক্লুসিভ কারো কাছে চাইতে না পারা মধ্যবিত্তরা অসহায়

কারো কাছে চাইতে না পারা মধ্যবিত্তরা অসহায়

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইল পৌর শহরের বাজিতপুরের হাবিবুর রহমান (ছদ্মনাম)। শহরে ছোট একটি দোকান করেন। সংসারের খরচ চালাতে পুরোপুরি ওই দোকানের উপরেই নির্ভরশীল। করোনার প্রভাবে দোকান বন্ধ। প্রায় আড়াই মাস দোকান বন্ধ থেকেছে, তাই উপার্জনও বন্ধ। একদিকে বাসা ভাড়া, অন্যদিকে দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন হাবিবুর। বাধ্য হয়ে পরিচিত একজনের মাধ্যমে ত্রাণ চেয়েছেন। কিন্তু, বাসা ভাড়া কিভাবে দিবেন কূল কিনারা করতে পারছেন না।
করোনার প্রাদুর্ভাবে লকডাউনে টাঙ্গাইল জেলা। শনিবার (৩০ মে) পর্যন্ত লকডাউনের ৫৩তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। জেলার শ্রমজীবী ও কর্মহীন মানুষেরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। দু’বেলা পেটে ভাত দিতে ত্রাণের পিছনে ছুটছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। তবে, টাঙ্গাইলে দরিদ্রদের থেকেও অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন সাহায্য চাইতে না পারা মধ্যবিত্তরা। দরিদ্র মানুষ সরকারি, বেসরকারি সহযোগিতা পেলেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকের ঘরে খাবার নেই। তারা কারও কাছে বলতেও পারছেন না। এই শ্রেণির মানুষের যেখানে খাদ্য জোগানোই কষ্টসাধ্য। তারই মধ্যে আতঙ্ক মাস গেলে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল।
মধ্যবিত্ত এই শ্রেণির কেউ কোচিং সেন্টারের শিক্ষক, কেউ আমদানিকৃত পণ্য দোকানে দোকানে বিক্রি করত, এনজিওকর্মী, কোথাও কোথাও বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করত, ছোট কোন কোম্পানির কর্মচারী, দোকানের কর্মচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারী চাকুরিজীবী। এছাড়া এই লকডাউনের সময়ে সকল প্রকার পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। মধ্যবিত্তদের প্রতি মাসে গড় আয় ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তাই দিয়ে সম্মানের সঙ্গে তারা সংসার চালিয়ে আসছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে সবকিছু বন্ধ থাকায় আজ তাদের সংসার চলছে না বলেই চলে।এ কথায় বলতে গেলে সমাজে এই শ্রেণীর মানুষই অনেক বেশী। যারা এই সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিকভাবে।
এরপরও তারা পথে বের হয়ে বলতে পারছে না- ‘আমার শিশুটি কাঁদছে, ঘরে খাবার নেই, বাসা ভাড়া দিতে পারছি না’। আবার অনেকে নিজের মধ্যবিত্ত মানসিকতার সঙ্গে গোপনে যুদ্ধ করছেন। ফলে অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন বেশির ভাগই ভাড়া বাসায় থাকেন। করোনার প্রভাবে না পারছেন বাসা ভাড়া ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে, না পারছেন সব ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে। এ অবস্থায় উপার্জন না থাকলেও টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ বাড়ির মালিক তাদের ভাড়াটিয়াদের চাপ দিচ্ছেন বাড়িভাড়া দিতে।
বেসরকারি চাকরিজীবী শহরের কলেজ পাড়ায় বসবাসকারী আরিফ হোসেন (ছদ্মনাম) টিনিউজকে বলেন, আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। গত মাসের বেতন এখনো হয়নি। এ মাস এখন শেষ। বাসা ভাড়া তো দিতেই পারিনি, ঘরে যে খাবার ছিল তাও শেষের পথে। আমি না হয় সমস্যা বুঝব, আমার ৫ বছরের বাচ্চাটা কিভাবে করোনার সমস্যা বুঝবে আমাকে বলেন? বেড়াডোমা এলাকার আব্দুল খালেক (ছদ্মনাম) কাজ করেন একটা এনজিওতে। গ্রামের বাড়ি পাবনা। দুই সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। বেতন আটকে আছে দুই মাস ধরে। তিনি পরিবার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। আব্দুল খালেক টিনিউজকে বলেন, আমি তো বাসা ভাড়ার জন্য ত্রাণের টাকা বা খাবার চাইতে পারব না। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, টাকাও পাঠাতে পারছি না। আমি কার কাছে হাত পাত বো বলেন?

ব্রেকিং নিউজঃ