বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2020
Home এক্সক্লুসিভ করোনায় টাঙ্গাইল রেড জোনে ॥ আবারও আসছে লকডাউন

করোনায় টাঙ্গাইল রেড জোনে ॥ আবারও আসছে লকডাউন

এম কবির ॥
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন- এই তিন ভাগে ভাগ করে জোন ভিত্তিক লকডাউন করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ও কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও)। তার সম্মতি পেলেই জোন ভিত্তিক লকডাউন কার্যক্রম শুরু করবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মেলেনি।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই শুরু হবে লকডাউন। করোনার অন্যতম হটস্পট হচ্ছে টাঙ্গাইল জেলা। তাই স্বাভাবিকভাবেই পড়েছে রেড জোনে। তাই আবারও টাঙ্গাইলে শুরু হতে যাচ্ছে লকডাউন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এবারের লকডাউন খুব কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে গত শনিবার (৬ জুন) রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশের লকডাউন এলাকার তালিকা। ‘গ্রিন, ইয়েলো ও রেড জোন’ এই তিন ভাগে ভাগ করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে টাঙ্গাইল রেড জোনে পড়েছে। তবে এসব জোনের নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের ভূমিকা কী হবে, এ বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রেড জোনে দিনের বেলা কোনো পরিবহন চলতে পারবে না। তবে রাতের বেলা মালামাল পরিবহন করা যাবে। শপিং মল বন্ধ থাকলেও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকবে। রেড জোনে শুধু ফার্মেসি, হাসপাতাল, নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকবে। কাঁচাবাজার, রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, শপিং মলসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং আক্রান্ত রোগীর পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে রাখাও নিশ্চিত করা হবে। রেড জোনে জনসমাগম রুখতে কাঁচাবাজার বন্ধ রেখে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ও মাথায় ঢুলি নিয়ে চলা ফেরিওয়ালাদের পণ্য বিক্রি করতে দেয়া হবে। সম্ভবত ১৪ থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হবে।
লকডাউন নিশ্চিত হচ্ছে কি না তা দেখভাল করবে পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং কমিটি। রেড জোনে থাকা কেউ যাতে ওই এলাকার বাইরে যেতে না পারে এবং বাইরের লোকজন যাতে সেখানে ঢুকতে না পারে তারজন্য সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিবে। বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের করোনা উপসর্গ দেখা দিবে তাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হবে। রোগী বেশি হলে একাধিক বুথ স্থাপন করা হবে। নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র বা পাশে থাকা আবাসিক হোটেলে টেকনোলজিস্টদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় কোয়ারেন্টিনে থাকার পর টেকনোলজিস্টদের রেড জোন থেকে বের হতে হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র টিনিউজকে জানায়, এখনও সরকারের নির্দেশ পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসন এ লকডাউন কার্যকর করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ব্রেকিং নিউজঃ