করোনায় ঈদ ঘরবন্দি উৎসব ॥ আনন্দ বড়ই শুকনো, বিবর্ণ

7

জাহিদ হাসান ॥
‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ’ দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আসে খুশি নিয়ে। ঈদের চাঁদ দেখা দেয়ার পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই গান রেডিও, টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু হওয়া মানে চাঁদ রাতেই ঈদের খুশি, আনন্দ শুরু হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে ফোনে, ফেসবুকে ঈদের শুভেচ্ছা বিতরণ শুরু হয়েছে চাঁদ দেখার পর থেকেই। যুগযুগ ধরে বরাবরই এমনটা হয়ে আসছে। হাল আমলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক হারে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়ে থাকে। এবারও চাঁদ দেখা যাওয়ার পর রেডিও টেলিভিশনে গানটি বেজেছে। কিন্তু, প্রসন্ন প্রফুল্ল চিত্তে এবার ঘরে ঘরে কণ্ঠে বাজছে না অন্তরে ধারণ করা সেই গান। অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী মহামারি দেখা দেয়ায় ঘরবন্দি জীবনে উৎসবে যেন সেই প্রাণটাই আজ বড় শুকনো, বিবর্ণ। তারপরও আজ সোমবার (২৫ মে) মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন।
চিরায়ত উদযাপনের যে ধারা দেড় হাজার বছর ধরে প্রচলিত, তা এ বছরে পুরোপুরি বিপরীত। বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এই ঈদে উদযাপন হবে সীমিত, ঈদের জামাত হয়েছে মসজিদগুলোতে। সরকারের পক্ষ থেকে জোর দিয়েই বলা হয়েছে, মহামারিকালের এই ঈদে কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে। বাইরে না গিয়ে ঘরে থেকে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশের সব ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ বরাবর এ উৎসবে সমানভাবে শামিল হন। ঈদের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। কিন্তু, ঘরবন্দি জীবনে এবার না যাওয়া যাবে প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, না হবে তাদের আমন্ত্রণ করা। এ বছর আমরা সশরীরে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হতে বা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও মোবাইল বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নিচ্ছে সকলে।

ব্রেকিং নিউজঃ