করোনার প্রভাবে বেকার হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ

6

এম কবির ॥
জলিল মিয়া আগে দিনমজুরি করে ৭/৮শ’ টাকা আয় করতেন। এখন এর অর্ধেক আয় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে গ্রামের বাড়িতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পাঠিয়েছেন। আয় না থাকায় এখন গ্রামের বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় গুনছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসবই করোনা ভাইরাসের প্রভাব। করোনার প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন সকল নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। অনেকেই বেকার হয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। স্বল্প আয়ের এসব মানুষের ভিড় দেখা মিলছে বাসটার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে। কম ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে ট্রাকে ওঠার জন্য ভিড় করছেন। অটোরিকশা চালক আমিন উদ্দিন টিনিউজকে বলেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০০ টাকা আয় করেছি। এরপর ১ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্যাসেঞ্জার কাছে আসেনি। জমার টাকা ওঠানোর জন্যই বসে আছি। সিএনজি চালক লোকমান হোসেন টিনিউজকে জানান, দুপুর গড়িয়ে যায় মাত্র ১০০ টাকা আয় হয়েছে। প্যাসেঞ্জার নাই। আর দুদিন দেখব, তারপর গ্রামে যাব। এভাবে থাকা যাবে না।
বিভিন্ন শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ টিনিউজকে জানান, করোনা আতঙ্কের কারণে কম সংখ্যক মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। অনেক বেসরকারি অফিসও বন্ধ। অনেকে শহর ছেড়ে চলে গেছে এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু ছাড়ছেন। প্রয়োজনে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তারা সংক্রমণের ভয়ে আছেন। বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। যেসব শ্রমিক এখনো কাজ করছে তাদের প্রতিদিনের আয় অর্ধেকের নিচে নেমেছে। টিকতে না পেরে অনেক শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে অনেক বাসার গৃহপরিচারিকাদের কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকার অনেক বাসায় এখন নিজেরা কাজ করছে। ফলে গৃহপরিচারিকারাও বেকার হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন টিনিউজকে জানান, পরিবারের নিরাপত্তা ও সাবধানতার কারণে তিনি তার বাসার গৃহপরিচারিকাকে এক মাসের জন্য ছুটি দিয়েছেন। কারণ গৃহপরিচারিকা বিভিন্ন বাসায় কাজ করে। কোথাও থেকে তিনি সংক্রমিত হলে পুরো পরিবারসহ বিপদে পড়তে হবে। তাই এই সতর্কতা। গৃহপরিচারিকা আকলিমা আক্তার টিনিউজকে বলেন, তার পরিচিত অনেক গৃহকর্মী ইতোমধ্যেই বেকার হয়ে পড়েছেন। তাকেও দুটি বাসা থেকে কাজে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যে কোনো সময় বেকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
কাঁচামালের দোকানদার রফিক মিয়া টিনিউজকে জানান, গত কয়েক দিন ধরে আগের মতো বেচাকেনা নেই। তরকারি কেনার মানুষ কমে গেছে। এ কারণে তার পরিচিত দোকানদাররা অনেকেই দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ কেউ গ্রামে চলে গেছে। রফিক নিজেও পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের এখন গ্রামে ফেরার দৃশ্য দেখা যায় বাস টার্মিনাল ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ