করোনার দুই বছর পর ঈদে টাঙ্গাইলের বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষে ভরপুর

210

এম কবির ॥
পবিত্র ঈদুল ফিতরে রোদ-মেঘ-বৃষ্টি ও করোনার ভয়কে জয় করে বরণ করেছে টাঙ্গাইলবাসী। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে টাঙ্গাইল জেলার সকল বিনোদন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বিগত দুই বছর করোনা মহামারীর কারণে সব কিছু ফিকে হয়ে গিয়েছিল। এবার জেলার সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো আবারও সরব হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নির্দেশে জেলার সকল বিনোদন স্পটগুলো নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ মে) সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের বিনোদন স্পটগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। এর আগে বৃষ্টির আবহাওয়ায় নামাজ পরতে হয় যার যার এলাকার মসজিদে। কিন্তু এবার করোনার ভয়কে জয় করে সবাই যার যার বাড়ী থেকে বেড়িয়ে আসে পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে। দুই বছর পর ঈদ উদযাপন করেছে আনন্দ নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে। এবার আনন্দ উদযাপন করতে জেলার সকল স্পটগুলোতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল।
বিনোদন স্পটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রকৃতি উপভোগ করতে মধুপুর বনাঞ্চল, মধুপুর বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামার, ধনবাড়ী নবাব বাড়ী, গোপালপুরে নির্মানাধীন ২০১ গম্বুজ মসজিদ, হেমনগর জমিদার বাড়ী, ভূঞাপুর যমুনা নদী র্তীরবর্তী এলাকা, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা, যমুনা রিসোর্ট, নৌপথে গোবিন্দাসী থেকে গাবসারা চরাঞ্চল, কালিহাতীর চারান বিল, এলেঙ্গা রিসোর্ট, ঘাটাইলের ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী, ঘাটাইল-ঝড়কা ও ধলাপাড়া পাহাড়ী সড়ক, ঘাটাইল শাপলা শিশু পার্ক ও সাগরদীঘি অনিক নগর পার্ক, সখীপুর বনাঞ্চল, বাসাইলের বাসুলিয়া বিল, মির্জাপুর মহেড়া জমিদার বাড়ী, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ী, আতিয়া জামে মসজিদ, নাগরপুর জমিদার বাড়ী, উপেন্দ্র সরোবর, ধলেশ্বরী সেতু, পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী, নাগরপুর ধুবুরিয়া স্বপ্ন বিলাস চিরিয়াখানা, টাঙ্গাইলের ডিসি লেক, টাঙ্গাইলের এসপি পার্ক, ঘারিন্দা রেলস্টেশনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সরকারি নিদের্শনায় জেলার অধিকাংশ বিনোদন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বহু বিনোদন পিপাসু মানুষ ঈদের পরদিন বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ মে) বের হয়েছে ঘুরতে। এরা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘুরছে। ফাঁকা সড়ক, মহাসড়ক দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ঈদের দিনে স্বপরিবারে বেড়াতে বের হয়েছেন জসিম উদ্দিন। তিনি টিনিউজকে জানান, করোনার কারণে পরিবার নিয়ে বের আগের ঈদগুলো ঘুরতে পারেনি। কিন্তু এবার ছেলে-মেয়েদের আবদার রক্ষা করতে একটু বের হতে হয়েছে। বিগত ঈদে যে মজা ছিল, দুই বছর ধরে সে মজার ছিটেফুটাও পাচ্ছি না। তারপরও অনেক মজা পাচ্ছি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে। টাঙ্গাইলে ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী রুনা আক্তার টিনিউজকে জানান, গাড়ী বন্ধ থাকায় দুরে কোথাও যাওয়া হচ্ছে না। তাই রিকশায় করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। মোটরসাইকেল নিয়ে আড্ডারত ৭-৮ জন যুবক টিনিউজকে জানান, প্রতিবার আমরা টাঙ্গাইলের প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু এবার কয়েকটা যায়গায় গিয়েছিলাম। এবার সকল বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের ভীড় দেখেছি।
ঈদ উপলক্ষে যমুনা নদীর পাড়ে বহু দর্শনার্থী বেড়াতে এসেছে। মূলত দুপুরের পর থেকেই এখানে ভীড় বাড়ছে। ঈদ ও ঈদের পর দিন থেকেই বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। মূলত ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলা থেকে ঘুরতে এসেছে দর্শনার্থীরা। বন্ধুবান্ধবদের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে এসেছে অনেকেই। ভিড় রয়েছে অনেক। টাঙ্গাইল সদর থেকে আসা যুবক মানিক মিয়া টিনিউজকে বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। যমুনা নদীতে নতুন পানি এসেছে, দেখতে অনেক মজা লাগছে। শিশু জেসমিন টিনিউজকে জানায়, ঈদ উপলক্ষে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছে সে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকার বেলটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা টিনিউজকে জানান, ঈদ উপলক্ষে শত শত মানুষ সেতু এলাকায় বেড়াতে আসছে। আগে কম আসতো মানুষ। এখন যতই দিন যাচ্ছে এখানে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদেরও অনেক ভাল লাগে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা কর্তৃপক্ষ টিনিউজকে জানান, ঈদ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্তে যমুনা নদীর পাড়ে দর্শনার্থী আসছে, তাদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ