কঠোর লকডাউনে আম নিয়ে বিপাকে টাঙ্গাইলের চাষি ও বিক্রেতারা

143

শেখ সোহান ॥
করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশের মতো টাঙ্গাইলে গত (১ জুলাই) থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। লকডাউনে আম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। অন্য আমের তুলনায় আম্রপালি আম নিয়ে বেশি চিন্তিত।
জানা যায়, পাইকার ও ক্রেতারা আসতে না পারায় এবার আমের দাম অনেকটাই কম। আবার লকডাউন খোলার অপেক্ষায় থাকলে গাছেই পচে নষ্ট হবে আম। এছাড়াও এমনিতেই আম্রপালি আম গাছেই অনেকটা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই কম দাম জেনেও বাগান থেকে আম পেড়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। আবার লোকসানের কবলে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, বটতলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে জানায়, আমের যেন ক্রেতাই মিলছে না। প্রতিবার সর্বোচ্চ চাহিদা আম্রপালির থাকলেও এবার তেমন বিক্রি নেই। লকডাউনের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দোকান খুলতে পারা যায়। আর সে সময় তেমন ক্রেতা মেলেনা। সব মিলেয়ে ব্যবসায় ধস নেমে আসছে। এবার মাথায় হাত পড়েছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের। আম চাষি রাজিব মিয়া টিনিউজকে বলেন, এবার আম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ, কীটনাশক খরচ কিছুই উঠবে না। কিন্তু এই সারা বছর বাগানের জমিতে অন্য ফসল চাষ করলেও এর চেয়ে বেশি টাকা আসত। তবে আমের দামে চাষি ও ব্যবসায়ীরা হতাশ হলেও পছন্দের আম কম দামে কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। আরেক আম চাষি সাহেদ খান টিনিউজকে বলেন, তিনি প্রায় ৫ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। অন্যবার এই সময় পাইকারদের আমের ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং ব্যবসায়ীরা টানাটানি শুরু করতেন। এবার পাইকার দূরের কথা স্থানীয়ভাবেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। করোনার কারণে দূর থেকে পাইকার না আসায় আমের বাজার একদম কম। বর্তমানে এক মণ আম্রপালি আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা দরে। এর আগে কখনোই ২২শ’ টাকার নিচে আম্রপালি আম বিক্রি হয়নি। আমাদের টাঙ্গাইলে যদি আম সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয় তবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।
বিভিন্ন এলাকার আম চাষিরা টিনিউজকে জানায়, স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা তাদের আম কিনছে না। রাজশাহী অঞ্চলের আম আরও কমে কিনে এনে চরা দামে বিক্রি করছেন তারা। এতে করে আমাদের এলাকার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে ক্রেতা কিংবা ব্যাপারী না থাকায় আমের বাজারে কোনো ধরনের হাঁকডাকই শোনা যায় না। কঠোর লকডাউনের কারণেই বাজারে ক্রেতা নেই। ঢাকার পাইকাররা আম কেনার সাহস পাচ্ছেন না।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ