এলজিইডি ৭৪ কোটি ২২ লাখ টাকার চুক্তিমূল্যে ব্রিজ ও রাস্তার কাজ করছে

166

Tangail_Pic-14.07ফাহাদ শাওন/জাহিদ হাসানঃ

জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে টাঙ্গাইল এলজিইডি বিভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে তারা টাঙ্গাইলের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। আর বর্তমানে তিনটি ব্রিজের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ব্রিজ ও রাস্তার কাজে মোট চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ২২ লাখ ২২ হাজার ৫৪১ টাকা। এলজিইডির এসব কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নাগরপুর-মির্জাপুর ভায়া মোকনা উপজেলা সড়কে ধলেশ্বরী নদীর উপর ৫২০ দশমিক ৬০ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ। এই ব্রিজ নির্মাণে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার ৮০৭ টাকা এবং রাস্তার জন্য ৯ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ব্রিজ নির্মিত হলে নাগরপুরসহ বিশাল চরাঞ্চলের মানুষ খুব সহজেই সারুটিয়া-ধামরাই হয়ে ঢাকা যেতে পারবেন। এতে তাদের অন্তত ৫০ কিমি রাস্তা কমে যাবে। সময়ও কমবে অর্ধেক। এখন তাদের ঢাকা যেতে হচ্ছে টাঙ্গাইল হয়ে। ফলে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া এই ব্রিজটি নির্মিত হলে ওই এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন উজ্জীবিত হবে তেমনি গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য কমে যাবে। একইসাথে গড়ে উঠবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিজাত পন্য সহজেই বাজারজাত করা সম্ভব হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিতব্য ব্রিজের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে ব্রিজের ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লি.। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম জানান, গত বছর ৩০ জুন এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার কথা রয়েছে আগামী বছর (২০১৬) ৩০ জুন। এই ব্রিজ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই নদীর উপর দিয়ে নৌকায় লোকজন ও ছোট যানবাহন পারাপার করেন নাগরপুর উপজেলার বেটুয়াজানি গ্রামের আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখান দিয়ে নৌকায় প্রতিদিন কমপক্ষে দুই হাজার লোক পারাপার হয়। এই ব্রিজটা আমাদের প্রাণের দাবি ছিল। অবশেষে আমাদের দাবিটা পুরণ হচ্ছে। আর ব্রিজটি হয়ে গেলে আমাদের সবার জন্য খুবই ভাল হবে।’ এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার মির্জাপুর-পাথরঘাটা রাস্তায় বংশাই নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে ৮ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৩ টাকা চুক্তিমূল্যের ৩০০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজ। একই উপজেলার বটতলা-কুড়াতলী লতিফপুর রাস্তায় বংশাই নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে ৩২০ মিটার দীর্ঘ আরো একটি ব্রিজ। এই ব্রিজের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি ১৩ লাখ ৪ হাজার ৪৮৪ টাকা। স্থানীয় চানপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হক জানান, এই এলাকার অন্তত ৭০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে এই নদীর উপর দিয়ে। এই ব্রিজটি হলে মানুষের যেমন উপকার হবে তেমনি এলাকারও উন্নয়ন হবে।
টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। এসব রাস্তার কাজে চুক্তিমূল্য ছিল মোট ৯ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। রাস্তাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার টাঙ্গাইল-আয়নাপুর সড়কের পুনর্বাসন কাজ করা হয় ৯ দশমিক ২৯০ কিলোমিটার, টাঙ্গাইল-চারাবাড়ী-তোরাবগঞ্জ-শাহজানী সড়ক মেরামত করা হয় ৫ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার, রসুলপুর হাইস্কুল-বড় বাসালিয়া হাট খোলামোড়া রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হয় ১ দশমিক ২০০ কিলোমিটার এবং একই উপজেলার আশেকপুর-গোসাই জোয়াইর রাস্তার এক কিলোমিটার পর্যন্ত পাকা করা হয়েছে। এছাড়া সখীপুর উপজেলার সখীপুর-সাগরদিঘী ভায়া বড়চওনা সড়কের পুনর্বাসন কাজ করা হয় ১৪ দশমিক ৬৬০ কিলোমিটার এবং মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা-ধানতারা জিসি সড়কের ২ দশমিক ৭৮০ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা হয়। রাস্তার কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে মীর দেওহাটা গ্রামের শাহীনুর মিয়া বলেন, আগে রাস্তাটি এতই খারাপ ছিল যে চলাচলই করা যেত না। ভাঙাচুরা রাস্তায় সবমসয় পানি জমে থাকতো। রাস্তা মেরামত করায় এখন খুব সুবিধা হয়েছে।
জেলায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান টি নিউজ বিডি ডটকমকে বলেন, কাজগুলো খুব মানসম্মতভাবে করা হয়েছে। আগামী ৫/৭ বছরের মধ্যে এসব রাস্তার ইট-খোয়া তথা বিটুমিন উঠে গেলে চাকরি ছেড়ে দেব। জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা জনগনের শাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে এলজিইডি টাঙ্গাইল টিম স্পিরিটের মাধ্যমে কাজকে নিজের মনে করে উন্নয়ন কাজের সর্বোচ্চ গুনগতমান বজায় রেখে রাস্তা, ব্রীজ/কালভার্টসহ সরকারি কাজগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ