এবার শীতে লেপ-তোষকের ব্যবসা মন্দা ॥ ক্রেতা কম

111

111আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ
প্রতি বছর শীত এলেই বেড়ে যায় টাঙ্গাইলে লেপ-তোষকের চাহিদা। ভিড় বাড়তে শুরু করে লেপ-তোষক বানানোর দোকানগুলোতে। নভেম্বর থেকেই শীত পড়তে শুরু করে আর ফেব্রুয়ারি শেষ নাগাদ থাকে শীতের আমেজ। শীত মওসুমে ঘরে ঘরে চলে শীত নিবারনের প্রস্তুতি। এ সময় অন্যান্য জিনিসের মতো লেপ-তোষকের চাহিদা বেড়ে যায় দ্বিগুণ।
কিন্তু এবার টাঙ্গাইলে লেপ-তোষকের কারিগরের ব্যবসায় ভিন্ন চিত্র। লেপ-তোষকের কারিগরের ব্যবসায় এখন ধস। তারা ব্যস্ত সময় পার করলেও বিক্রির পরিমান কম। বিক্রির পরিমান কম থাকায় ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। তারা তাদের দোকান ভাড়া ঠিক মতো তুলতে পারছে না।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনি বাজার, পুরাতন বাসট্যান্ড, নতুন বাসট্যান্ড, আদালতপাড়া, বেবিট্যান্ড হাজরাঘাটে লেপ-তোষক বিক্রি করা হয়।এসব লেপ-তোষকের কারিগদের দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমান কম। শহরের ছয়আনি বাজারে মোহাম্মদ সাগরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বছর লেপ-তোষকের ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে। কারণ ক্রেতার সংখ্যা কম। পর্যাপ্ত ক্রেতা  না থাকায় আমাদের লোকসান হচ্ছে। আগে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হতো। এখন মাসে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। আমি ১৫ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত। তিনি আরো বলেন, ফেরিওয়ালা বাসায় গিয়ে লেপ-তোষক বানাচ্ছেন। এতে করে শহরের দোকানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তুলা ও কাপড়ের দাম কম। একটি লেপ-তোষক ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি।
একই বাজারের আসলাম  বলেন, এ বছর বিক্রির পরিমান কম। আর বিক্রির পরিমান কম থাকায় কেনা-বেচাও কম হচ্ছে। ৬ আনার মধ্যে ২ আনা বিক্রি হয়। একটি লেপ-তোষক ৬০০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করি। এ বছর শীতের তীব্রতা কম থাকায় লোকজন লেপ-তোষক কম কিনছে। বিক্রি কম থাকায় দোকানের ভাড়াও ঠিক মত তুলতে পারছি না। সংসারের যাবতীয় সকল খরচ দিয়ে এখন আয়ের থেকে ব্যয় বেশী হয়। আমি ২৮ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত। শাকিল উদ্দিন সরকার বলেন, এ বছর আমাদের বিক্রি কম থাকায় ক্রেতার পরিমান কম। আর এতে আমার লোকসান হচ্ছে। এজন্য আমি সংসার খরচ ঠিক মতো চালাতে পারছি না।

ব্রেকিং নিউজঃ