এবার টাঙ্গাইল জেলায় ১২৪০টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে

96

কাজল আর্য ॥
সনাতন তথা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজা দরজায় কড়া নাড়ছে। চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। টাঙ্গাইলে প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। আয়োজকরা ম-পে ম-পে করছেন সাজসজ্জার কাজ। আগামী সোমবার (১১ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) শেষ হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এবার জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১২৪০ ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগররা রং তুলির আচড়ে মাটির প্রতিমাকে পূর্ণতা দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েত থাকবে নিরাপত্তার কাজে।
সরেজমিনে ম-পে ম-পে দেখা যায়, প্রতিমার গায়ে রং তুলির আচড় এবং অলংকরণ করে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর সৌন্দর্য। যেনো জীবন্ত রূপে ফুটে উঠছে প্রতিমাগুলো। অনেকেই দেবী দূর্গার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। প্রতিমা দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন ম-পগুলোতে। উত্তর টাঙ্গাইলের একটি জাকজমকপূর্ণ বারোয়ারি দূর্গাপূজা হয়ে থাকে কালিহাতীর দৌলতপুর রায় বাড়িতে। এখানে প্রতিবারের ন্যায় এবারো প্রতিমা তৈরি করছেন সনাতন পাল (৬০)। তিনি টিনিউজকে বলেন, প্রতিমা তৈরি আমাদের পৈত্রিক পেশা। আমরা বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করি। এটা আমাদের ঐতিহ্য। তিনি আরো বলেন আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্নস্থানে প্রতিমা বানাই। আমরা টীম আকারে কাজ করি। মোহন পাল টিনিউজকে বলেন, আমরা এ বছর ১৫ টি প্রতিমা তৈরি করেছি। পূজার শুরুর দেড় দুই মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করি। এখন শেষ সময়ে দম ফেলার ফুসরত নেই। রাতে দিনে সমান তালে কাজ করতে হচ্ছে। পূজার সংখ্যা বেড়েছে, মজুরিও ভাল।
টাঙ্গাইল জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে টিনিউজকে বলেন, ১২টি উপজেলায় এবার ১ হাজার ২৪০ টি ম-পে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলায় ২০৭ টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ৩১ টি, মধুপুর উপজেলায় ৫৫ টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৪০ টি, গোপালপুর উপজেলায় ৪৬ টি, ঘাটাইল উপজেলায় ৭৮ টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৮২ টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১১৯ টি, নাগরপুর উপজেলায় ১২৮ টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৫২ টি, বাসাইল উপজেলায় ৬০ টি, সখীপুর উপজেলায় ৪২ টি পূজা ম-পে পারিবারিক ও সার্বজনীন দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
টাঙ্গাইলের বড়কালীবাড়ী, আদালতপাড়া ও করটিয়া, মির্জাপুর, পাথরাইল, এলেঙ্গার পূজা উল্লেখযোগ্য। এসব স্থানে দূর দুরান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী প্রতিমা দেখতে আসেন।
কেন্দ্রীয় বড় কালীবাড়ী মন্দির কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সাহা টিনিউজকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। চলছে শেষ মুহুর্তের কাজ। ম-পে পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করবেন। আশা রাখি দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। পুজার ২-১ দিন আগে সরকারি অনুদান পূজা কমিটির হাতে পৌঁছে যাবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় টিনিউজকে বলেন, দূর্গাপুজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের সদস্যরা নিরলস দায়িত্ব পালন করবেন। সেইসাথে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা বিশেষ ডিউটিতে থাকবেন। পুজা উপলক্ষে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ