এক বছর পর টাঙ্গাইলে চালু হলো আইসিইউ

120

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
করোনা রোগীদের জন্য অবশেষে ১ বছর পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চালু করা হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ)। রোববার (২ মে) দুপুরে ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। এর মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নুরুল আমীন মিঞা, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান, হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব প্রমুখ। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, বহুল প্রত্যাশিত টাঙ্গাইলবাসী জন্য নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) চালু করা হয়েছে। দক্ষ চিকিৎসক এবং নার্সের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর পাশাপাশি এখানে সেন্টাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ জনগণ এই সেবা ভোগ করবে। একই সাথে জরুরি রোগীদের ঢাকায় যাওয়ার যে দুর্ভোগ তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। বর্তমানে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ’র সাপোর্টটি খুবই জরুরি। এখানে আইসিইউ’র সব ধরনের সুবিধা রয়েছে।
করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন যে তার সরকার প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু ১ বছর অতিক্রম হলেও চালু করা হচ্ছিল না আইসিইউ’র ব্যবস্থা।
জানা যায়, বর্তমানে টাঙ্গাইলে মোট জনসংখ্যা ৪২ লক্ষাধিক। প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও জেলার চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার থেকে বহুগুণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। করোনা ইউনিট চালু হলেও জটিল রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা ছিলো না।
জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত বছরের (৮ এপ্রিল) জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বাসাইল উপজেলায়। বিগত কয়েক মাসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, রোববার (২ মে) পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪৬৯৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭২জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৪০৩৩ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩১১ জন। মোট কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪৮১১ জন।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ