বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2020
Home এক্সক্লুসিভ একটি ফেসবুক পোষ্ট জীবন বাঁচালো টাঙ্গাইলের সৌদী প্রবাসী আলামিনের

একটি ফেসবুক পোষ্ট জীবন বাঁচালো টাঙ্গাইলের সৌদী প্রবাসী আলামিনের

জে সাহা জয়: ফেসবুকে দেয়া একটি ভিডিও পোষ্ট জীবন বাচিয়ে দিয়েছে টাঙ্গাইলের ছেলে সৌদী প্রবাসী আলামিনের। সৌদী গিয়ে সে কাজ না পেয়ে মানসিক  ভারসাম্যহীন হয়ে জেদ্দা শহরে ঘুরতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইলের আরেক প্রবাসী আতিক অপু একটি ফেসবুক পোষ্ট দেন। এই ফেসবুক পোষ্টের সুত্র ধরেই পরিচয় মেলে আলামিনের।  তার পরিবারের দাবী তাকে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিড়িয়ে এনে দেয়ার।

টাঙ্গাইলের ছেলে নাম আলামিন। বাবার নাম শওকত হোসেন। সে তার নাম, বাবার নাম ও বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলা এটুকুই বলতে পারছে। সে সৌদি আরবের জেদ্দায় হেরাম সেন্টারের সামনে পাগলের মতো ঘোরাফেরা করছিল। সেখানেই বিল্ডিং এর এক কোনায় থাকে। সৌদি কবে এসেছে সেটাও বলতে পারে না। একজন প্রবাসী বাংলাদেশী টাঙ্গাইলের ছেলে আতিক অপু ছেলেটিকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেখতে পেয়ে গত ১৭ জুন তার নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও পোষ্ট দেন। তার এই পোষ্টটি টাঙ্গাইলের অনেকে শেয়ার করেন। এ নিয়ে টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল tnewsbd.com এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতেই পরিচয় মেলে আলামিনের। তার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পাছ বেথইর গ্রামে। বাবার নাম শওকত হোসেন। আলামিন এখন প্রবাসী আতিক অপুর তত্বাবধায়নে ভালো আছেন। এমনটাই ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন আতিক অপু। তাকে দেশে ফিড়িয়ে নেয়ার জন্য সকলের সহযেগিতা চেয়েছেন তিনি। আতিক অপু জানান, আলামিনের আপন ভাইয়ের কোন সারা পাইনি। আলামিনকে উদ্ধারের বিষয়ে মামুন, সাইফুল, রাজিবসহ আরো কয়েকজন প্রবাসীর অবদান সবচেয়ে বেশি। আলামিন এখন নিশান ভাইয়ের বাসায় আছে ।

শনিবার (২০ জুন) সকালে আলামিনের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, গত প্রায় পাঁচ মাস আগে সৌদী যায় সে। সৌদী পৌছার পর ফোনে পরিবারের  সাথে যোগাযোগ হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে কোন কাজ না পাওয়ায় মানবেতরন জীবন যাপন করতে থাকে। এরই মধ্যে দেশ থেকে তার পরিবার তার কাছে টাকাও পাঠায়। ইতিমধ্যে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরে। আলামিনের বাবা, মা ও এলাকাবাসীর দাবী তাকে দেশে ফিড়িয়ে এনে দেয়ার জন্য। একইসাথে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী আতিক অপুর প্রতি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজ কুমার সরকার জানালেন, আলামিনের বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। ঋন করে টাকা এনে আলামিনকে বিদেশ পাঠিছেন। আলামিন যাতে সুস্থ শরীরে দেশে ফেরত আসতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক যে একটি সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম, তা আবারও প্রমানিত হলো আলামিনের এ ঘটনার মধ্য দিয়ে। আলামিন সুস্থ শরীরে বাবা-মায়ের কোলে ফিড়ে আসবে এটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

ব্রেকিং নিউজঃ