ঈদে প্রচন্ড গরমে টাঙ্গাইলের বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের আনন্দ

70

জাহিদ হাসান ॥
পবিত্র ঈদুল আযহায় প্রচন্ড রোদ ও গরমকে বরণ করে নিয়েছে টাঙ্গাইলবাসী। এরই মধ্যে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে টাঙ্গাইল জেলার বিনোদন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় দেখা গিগেছে। কিন্তু গত দুই বছর করোনার মহামারীর কারণে সব কিছু ফিকে হয়ে গিয়েছিল। সে সময় প্রশাসনের নির্দেশে জেলার সকল বিনোদন স্পটগুলো বন্ধ ছিল।

কিন্তু এবার জেলার প্রায় বিনোদন কেন্দ্রে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার (১০ জুলাই) সকালে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ পরেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা। বিগত বছরে দেখা যায় ঈদের নামাজ পড়ে কোরবানি শেষে সবাই বেড় হয়ে পড়নে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। কিন্তু এবার সেই দৃশ্য চোখে পড়েছে কম। কারণ টাঙ্গাইল জেলায় প্রচন্ড তাপদাহ চলছে। তাই অনেকেই ঈদ উদযাপন করেছেন বাড়ীতেই পরিবারের সাথে। তারপরও ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে গত রবিবার (১০ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্পটগুলোতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক।

ঈদকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখোরিত টাঙ্গাইলের সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদ শেষে শুক্রবার (১৫ জুলাই) টাঙ্গাইল পৌর শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ডিসি লেক, এসপি পার্কে ও বাসুলিয়া বিলে সকল বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভীর। সবাই যে যার মতো করে প্রিয়জনদের নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কেউ নাগরদোলা ও দোলনায় দোল খাচ্ছেন। কেউবা আবার দিঘী ও বিলের জলে নৌকায় ভেসে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার ট্রেনে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার ব্যস্ত আড্ডা ও সেলফি তোলায়। সবাই নিজেদের মতো করে নেচে গেয়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশী আনন্দ উপভোগ করছে শিশুরা।

এ সময়ে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রকৃতি উপভোগ করতে মধুপুর বনাঞ্চল, মধুপুর বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামার, ধনবাড়ী নবাব বাড়ী, গোপালপুরে নির্মানাধীন ২০১ গম্বুজ মসজিদ, হেমনগর জমিদার বাড়ী, ভূঞাপুর যমুনা নদী র্তীরবর্তী এলাকা, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা, যমুনা রিসোর্ট, নৌপথে গোবিন্দাসী থেকে গাবসারা চরাঞ্চল, কালিহাতীর চারান বিল, এলেঙ্গা রিসোর্ট, ঘাটাইলের ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী, ঘাটাইল-ঝড়কা ও ধলাপাড়া পাহাড়ী সড়ক, ঘাটাইল শাপলা শিশু পার্ক ও সাগরদীঘি অনিক নগর পার্ক, সখীপুর বনাঞ্চল, বাসাইলের বাসুলিয়া বিল, নকির বিল, মির্জাপুর মহেড়া জমিদার বাড়ী, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ী, আতিয়া জামে মসজিদ, নাগরপুর জমিদার বাড়ী, উপেন্দ্র সরোবর, ধলেশ্বরী সেতু, পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী, নাগরপুর ধুবুরিয়া স্বপ্ন বিলাস চিরিয়াখানা, টাঙ্গাইলের ডিসি লেক, টাঙ্গাইলের এসপি পার্ক, ঘারিন্দা রেলস্টেশনগুলোতে দর্শনার্থীদের অনেক ভিড়। বহু বিনোদন পিপাসু মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের এই সময় কাটিয়েছেন ঘুরে বেরিয়ে। এদের মধ্যে যুবকরাই বেশি রয়েছে। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘুরছে। ফাঁকা সড়ক, মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ঈদের সময়ে স্বপরিবারে বেড়াতে বের হয়েছেন জসিম উদ্দিন। তিনি টিনিউজকে জানান, করোনার কারণে পরিবার নিয়ে বের হওয়াই অনেক কঠিণ ছিল। কিন্তু প্রচন্ড গরমকে উপেক্ষা করে আজ ছেলে-মেয়েদের আবদার রক্ষা করতে একটু বের হতে হয়েছে। বিগত ঈদে যে মজা ছিল, দুই বছর ধরে সে মজার ফিটেফুনাও পাইনি। সে সময় আতঙ্ক নিয়ে কি আর ঘুরে বেড়ানো যায়। তবে সব কিছু বন্ধ থাকায় যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে না। টাঙ্গাইলে ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী রুনা আক্তার টিনিউজকে জানান, গাড়ী বন্ধ থাকায় দুরে কোথাও যাওয়া হচ্ছে না। তাই রিকশায় করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। মোটরসাইকেল নিয়ে আড্ডারত ৭-৮ জন যুবক টিনিউজকে জানান, প্রতিবার আমরা টাঙ্গাইলের প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু এবার গরমের কারনে কয়েকটা জায়গায় গিয়েছিলাম। সাধ্যমতো মজা করেছি। এখন তাই বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি।

ঈদ উপলক্ষে যমুনা নদীর পাড়ে বহু দর্শনার্থী বেড়াতে এসেছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। মূলত ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলা থেকে ঘুরতে এসেছে দর্শনার্থীরা। বন্ধুবান্ধবদের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে এসেছে অনেকেই। মোটামুটি ভালই ভিড় রয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থেকে আসা যুবক মানিক মিয়া টিনিউজকে বলেন, গরমের কারণে জেলার সব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে শান্তি নাই। তাই বন্ধুদের সঙ্গে যমুনা নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। স্থানীয় শিশু সিনথিয়া টিনিউজকে জানায়, ঈদ উপলক্ষে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছে সে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকার বেলটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা টিনিউজকে জানান, ঈদ উপলক্ষে শত শত মানুষ সেতু এলাকায় বেড়াতে আসছে। এতে আমরাও অনেক মজা করছি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ