ইটভাটাগুলোতে অবাধে পুড়ছে বৃক্ষ, প্রশাসন নির্বিকার

115

SAM_2304-640x410জাহিদ হোসেনঃ

সরকারী আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার বিভিন্ন ইটের ভাটায় দেদারছে বৃক্ষ নিধন হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের বন্ধু বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, তেমনি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে গোটা পরিবেশ। অথচ এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।
প্রতিবছর এই সময়ে বিভিন্ন ইটের ভাটায় ইট তৈরির কাজ শুরু হয়। আর অধিকাংশ ভাটায় ইট তৈরির জন্য কয়লার পরির্বতে পোড়ানো হয় বৃক্ষ। ভাটায় কিছু কয়লার স্তূপ থাকলেও তা রাখা হয় মূলত লোক দেখানোর জন্য। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি না থাকায় ইটভাটার মালিক-কর্মচারীরা বৃক্ষ ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় নামে। এবারো তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। কালিহাতি উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের কাছিনা বানাঘাট এলাকার স্বর্ণা ইটের ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বৃক্ষ কেটে লাকড়ি তৈরি করে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে লাকড়ি নিয়ে শ্রমিকরা ইটের খোলায় নামিয়ে দিচ্ছে।
এই ইট ভাটার মালিক শহীদুল ইসলাম বললেন, জানি গাছ পোড়ানো ঠিক না। কিন্তু কি করব, শুরুর দিকে কয়লা পাওয়া যায় না তাই লাকড়ি লাগে। শহীদুল ইসলাম জানান, ওই সময় তার ইটের ভাটায় প্রায় দেড় হাজার মণ লাকড়ি রয়েছে। এছাড়া আরো দু’টি ইটের ভাটায় পোড়ানোর জন্য লাকড়ি আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। গাছ কাটা হলে এবং গাছ পোড়ানো হলে পরিবেশের উপর কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এমনিতেই গাছ কাটা নিষিদ্ধ। গাছ কাটলে ভূমিক্ষয়সহ পরিবেশের উপর মারাতœক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। আর গাছ পোড়ালে বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় যা সার্বিকভাবে পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।
এ ব্যাপারে কালিহাতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছার উদ্দিন বলেন, ইটভাটায় কোন ভাবেই গাছ পোড়ানো যাবে না। তবে কেউ গাছ পোড়ালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ