আষাঢ়ে বৃষ্টির প্রভাবে টাঙ্গাইলে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বেড়েছে

41

জাহিদ হাসান ॥
আষাঢ়ে বৃষ্টির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা ও শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। তবে কমেছে দেশী পেঁয়াজসহ কয়েকটি মসলাপাতির দাম। ডিম ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মাছ-মাংস বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। শনিবার (১৮ জুন) টাঙ্গাইল শহরের পার্কবাজার, ছয়আনী বাজার, আমিন বাজার ও সিটি বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির তথ্যমতেও বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

 

সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের আকাশ মেঘে ঢাকা। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন উপজেলায়। বর্ষায় বৃষ্টির প্রভাবে শাক-সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। ভারি বর্ষণে দেশের অনেক জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে আরেক দফা বেড়েছে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম। মুদিপণ্যের ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে বলেন, বর্ষা শুরু হওয়ায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে জিনিসপত্রের দাম যে বাড়বে এটা স্পষ্ট। এছাড়া শাক-সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুদিন ধরে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও ভারি বৃষ্টির কারণে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সবজির দাম বাড়ছে। তবে বন্যা ও বৃষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হলে জিনিসপত্রের দাম কমতে পারে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চাল, আটা ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। বিশেষ করে চালের দাম কমানোর উদ্যোগ সরকারীভাবে নেয়া হলেও কার্যত বাজারে এর প্রভাব নেই। যদিও ধানের দাম আরও কমেছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের ন্যায্যদাম নিশ্চিত না হলেও মিলার, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনে মজুদ করছেন। অন্যদিকে বাড়ছে চালের দাম। শনিবার (১৮ জুন) টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বাজারে সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭০-৮৫ টাকায়। অন্যদিকে ৫২ টাকার নিচে কোন মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। স্বর্ণা ও চায়না ইরি খ্যাত মোটা চাল কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৫৩-৫৫ টাকা। অন্যদিকে পাইজাম ও লতা চাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

 

এ প্রসঙ্গে ছয়আনী বাজারের চাল ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে বলেন, অভিযান পরিচালনা করার পর মাঝে চালের দাম কিছুটা কমলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া এখন বর্ষাকাল। এই মৌসুমে চালের উৎপাদন কমে যায়। ফলে দাম আরও বাড়তে পারে। এদিকে চালের পাশাপাশি বাজারে আটার দাম বাড়ছেই। প্যাকেট আটার দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মানভেদে প্রতিকেজি প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। চালের দামে বিক্রি হচ্ছে আটা। যারা নিয়মিত রুটি খান তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আটার পাশাপাশি দাম বেড়েছে ময়দারও। প্রতিকেজি ময়দা ৬০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া পাম অয়েলের দাম কমানো হলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। আগের মতো উচ্চদামে বিক্রি হচ্ছে পামঅয়েল। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতিলিটার ১৫৮ টাকা হলেও খুচরা ক্রেতাদের পামঅয়েল তেল ১৭২-১৭৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা কৌশলে সয়াবিন তেলের দাম আরেকদফা বাড়িয়ে নিয়েছেন। নতুন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন। প্রতি পাঁচ লিটারের বোতল ৯৯৭ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও ক্রেতাকে ১০২০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। বাজারে মানভেদে মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৬০ টাকা পর্যন্ত। ডালের দাম বেড়েই চলছে। মুদিপণ্যের ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে জানান, কোনভাবে ডালের দাম কমছে না। আমদানিকৃত মোটা দানার মসুর ডাল এক বছর আগে প্রতিকেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হলে এখন সেই সমপরিমাণ কিনতে ক্রেতাকে ১১০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। তবে কমেছে দেশী পেঁয়াজের দাম। প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মসলাপাতির দাম কিছুটা কমেছে। বর্ষার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে শাক-সবজির দাম বেড়ে গেছে।

 

পার্ক কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা হারুন আহমেদ টিনিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া বন্যায়ও অনেক স্থানে সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম। ফলে দাম বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। তবে দাম বেড়েছে সব ধরনের দেশী মুরগির। প্রতিকেজি দেশী মুরগি ৫৩০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

 

মাছ-মাংস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্ষায় সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না মাছের। বিশেষ করে ইলিশ মাছ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ইলিশ আকার ও সাইজভেদে ১০০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সব ধরনের চিংড়ির দাম। ঘেরের চিংড়ি ৭০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও নদীর চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ