আমনের বাম্পার ফলন ॥ দাম নিয়ে হতাশ কৃষক

129

3নোমান আব্দুল্লাহঃ

টাঙ্গাইল জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অগ্রহায়ন মাসের শুরু থেকে ধান কাটার ধুম লাগলেও দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে ৫৫০-৬৫০ টাকা মণ দরে ধান বিকোচ্ছে। অথচ জমিতেই কৃষকের খরচ হয়েছে মণ প্রতি ৫০০-৬০০ টাকা। এ নিয়ে কৃষকের পরিবারে হা-পিত্যেশ থাকলেও দেখার কেউ নেই। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বর্গা চাষীরা।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯ হাজার ৭৭৪ হেক্টর জমিতে ২২ লাখ ৪ হাজার ৯০৮ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, ১ লাখ ৬৬৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪৭ হেক্টর, উফশি ৮৩ হাজার ১১৭ হেক্টর, স্থানীয় ১৭ হাজার ৪৯৯ হেক্টর। বোনা আমানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩২ হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে ৩৮ হাজার ১১২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৩১ হাজার ৬৭৬ হেক্টর জমিতে। টাঙ্গাইলে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে সেজন্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে কোন হিসেব করা হয়নি। সূত্র মতে, টাঙ্গাইলে ব্রি ধান ৬২, ৪৯, ৫১, ৫২, ৪১, ৪০, ৩৯, ৩৩,  ৩৪, ২৯, ৩০, ২২, বিনা ৭, বিআর ১১ এবং পাজাম উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়া স্থানীয় জাতের পাট জাগ, আলোয়া, কালিজিরা, নাইজারশাল ইত্যাদি ধান আবাদ করেন কৃষকরা। কৃষকরা হাইব্রিডের বিভিন্ন প্রজাতির ধানও চাষ করেন।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হাসিম টিনিউজকে বলেন, আমরা আশা করছি এবারের ফলন ভাল হবে। আমাদের সার্বিক সহযোগিতায় এবার ধানের কোন ক্ষতি হয়নি। আগামী মৌসুম থেকে আমারা বিনা সার এবং ব্রি ধান ৬২ ধানগুলোর চাষ আরো বৃদ্ধি করব। কারণ এই ধানগুলোতে জিংক আছে। প্রতিটি উপজেলায় ৪০ একর করে এর বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আর এই বীজ সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এই দুটি ধানের বিস্তার ঘটানো হবে। বিনা সার ১০০ দিনে হয়,  ৬২ সারও ১০০ দিনে হয়। আর এই দুটি ধান তাড়াতাড়ি ওঠার কারণে সরিষা, গম, ভূট্টা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করতে পারবে কৃষকরা। আমরা লোকাল ধানগুলোর উৎপাদনও বাড়াতে চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ে সব সময়ই অফিসাররা কাজ করেন। তারা কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেন। সরেজমিনে এনায়েতপুর, বৈল্যা, গালা, মাগুরাটা, সদুল্লাপুর এলাকা ঘুওে দেখা গেছে, সেখানে কৃষকরা ধান কাটছেন। অনেক জমিতে ধানকাটা শেষও হয়েছে।
কৃষকরা টিনিউজকে জানান, তাদের জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি এবং ধানের দাম কম। ধানের দাম কম থাকায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। এনায়েতপুরের ধানচাষী বিভাষ মিয়া টিনিউজকে জানান, তিনি প্রতি বছরই ধান চাষ করেন। এ বছর তিনি ১০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে মণ প্রতি ৬০০-৭০০ টাকা।
সদুল্লাপুরের আবীর হোসেন টিনিউজকে জানান, তিনি এ বছর ৩৬ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন। তাদের ওখানে কালিজিরা, চিনি সাগর, পাটজাগ, বিআর ১১ ধানের চাষ হয়। তার তিনটি জমিতে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমিতে ফলনও হয়েছে ভাল। বাজারে এখন সব জিনিসের দাম বেশি। শুধুমাত্র ধানের দাম কম। ধানের দাম কম হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও তাদের লোকসান হবে। লোকসান হওয়ায় অনেকেই ধানী জমি বর্গা দিয়েছেন। দাম কম থাকায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। তারা ধানের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করা দাবি জানায়।

ব্রেকিং নিউজঃ