আট পৌরসভায় বিভিন্ন জনমত জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে

105

imagesমাসুদ আব্দুল্লাহঃ
টাঙ্গাইলে আটটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ৭টিতে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। বাকী একটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে। জেলার বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার গোপন জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টাঙ্গাইল পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী দুইবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন। সাবেক এই মেয়র পৌর এলাকার অবহেলিত সাধারণ মানুষের কাছে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। পৌরসভার গণমানুষের কাছে তিনি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য। এছাড়া শহরের কয়েকটি বিশেষ এলাকায় তার রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক সানু এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর এক বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তার গ্রুপের বিশাল একটি অংশ নির্বাচন থেকে বিরত থাকায় মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়েছে ধানের শীষ প্রতীকে।
ধনবাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপনের এবারও জয়লাভের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি মেয়র থাকাকালীন সময়ে এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাই এখানে তার নিজস্ব ভাবমুর্তি গড়ে উঠেছে ভোটারদের মাঝে। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএমএ ছোবহান দলীয় অন্তদন্দের কারণে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন ভোটের মাঠে।
মধুপুর পৌরসসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বিগত ’৯৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মাসুদ পারভেজ পরাজিত হয়েও তিনি নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। তাই মধুপুরবাসী তাকে এবার পরখ করে দেখতে চান। এছাড়া সংখ্যালঘু ভোটাররা যদি ভোট কেন্দ্রে আসতে পারেন তাহলে জয়লাভের সুযোগ রয়েছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিনবারের মেয়র শহীদুল ইসলাম এলাকায় কোন উন্নয়নমুলক কাজ করতে পারেননি। তিনি মূলত ময়মনসিংহে বসবাস করায় তার ভোটারদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থেকেও শেষ মুর্হুতে ভোটারদের ভোটের শিকার হতে পারেন।
গোপালপুর পৌরসভায় নৌকার মাঝি হয়েছেন রকিবুল হক ছানা। তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। ইতিপূর্বে তিনি মেয়র পদে দুইবার নির্বাচনে লড়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। পর্যবেক্ষকদের ধারনা শুধুমাত্র দলীয় কোন্দেলেই গত দুই নির্বাচনে তিনি হেরেছেন। তবে এবার দলীয় কোন্দল মিটিয়ে তিনি জয়লাভের ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম রুবেল। তিনি এলাকায় কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। যে কারণে তার ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ। এখানে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ‘জগ’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম এবং “মোবাইল” প্রতীক নিয়ে মাসুদুল হক মাসুদের আপন ভাতিজা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল। এ কারণে নৌকার প্রার্থীর অবস্থা অনেকটা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল খালেক মন্ডলের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় সে ভোটের মাঠে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
কালিহাতীর বর্তমান পৌর মেয়র আনছার আলী বিকম এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তার সময়ের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা রজায় রাখতে ভোটের মাঠে এগিয়ে চলেছেন। মেয়র হিসেবেও পৌরসভার গরিব-দুঃখী মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন খালিদ থাকায় আনছার আলীকে ভোটের মাঠে বেগ পেতে হবে। তারপরও এখানে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী আকবর জব্বার। দুই প্রবীণের লড়াইটা জমে উঠবে বলে মনে করছেন এখানকার সাধারণ ভোটাররা।
মির্জাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহাদৎ হোসেন সুমন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হযরত আলী মিঞা। দুইজনই নবীন, তাই এখানে জমজমাট লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে।
সখীপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ। তিনি এবারও জয়লাভের ব্যাপারে ভোটারদের কাছে তার সময়ে উন্নয়নের কথা বলেছেন। পাশাপাশি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিনের অবস্থা অনেকটাই শোচনীয়। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব এবারও প্রার্থী হওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী ভোটের মাঠে অনেকটা কোনথাসা হয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ