১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

135

Mawlana-Bashani-pic-02স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গত ১৩ নভেম্বর থেকে পাঁচ দিনব্যাপী শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি বিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভাসানীর কর্মময় জীবনের উপর আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মওলানা ভাসানী সম্পর্কে জানতে মেলায় আসছেন, ভীড় জমাচ্ছে মেলার স্টলগুলোতে। তাদের পদচারনায় মুখোরিত মেলা প্রাঙ্গন। ভাসানীর মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসুচী হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, মাজারে পুষ্পস্তোবক অর্পণ, খিচুরী বিতরন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনসহ নানা আয়োজন।
ভাসানী তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনে মানুষের জন্যেই কাজ করে গেছেন। দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত গরীব-দুঃখী মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন, সংগ্রাম সামনে থেকে পরিচালনা করেছেন। “যুগ যুগ জিয়ো তুমি-মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে প্রতি বছরের মতো ১৭ নভেম্বর মুখোরিত হয়ে উঠে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবসিস্থত মওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গন। ভাসানী দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অধিকাংশ সময়ই টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাটিয়েছেন। এখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯টি কারিগরী ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এসব প্রতিষ্ঠান এখনও রয়েছে শুধু তার স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়টিই নেই। বিগত সরকারগুলো কথা দিয়েছিল বারবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১শ’ ৬ দশমিক ২৬ একর জায়গার ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারা ভোগ করেন। ১৯২৩ সালে ভয়াবহ বন্যা হলে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলে আসেন ত্রান বিতরন করতে। এরপর তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষ গ্রামে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রম্ম্রপুত্র নদীর ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের পিছনে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।
১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। তিনি বাংলার গরীব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বহু আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন। এ কারনেই তিনি মজলুম জননেতায় পরিনত হন। গরীব-দুঃখীর জন্য আন্দেলন-সংগ্রাম করতে করতেই মওলানা ভাষানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নবেম্বর মৃত্যুবরন করেন। তাকে সমাহিত করা হয় টাঙ্গাইলের সন্তোষে।

ব্রেকিং নিউজঃ