আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ ॥ বহিষ্কার করেও বিদ্রোহীদের মনোবল ভাঙ্গতে পারেনি

147

03_12_15_08_46_432015280035823shফাহাদ শাওনঃ
টাঙ্গাইলে আটটি পৌরসভার চারটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের। কিন্তু এই বহিষ্কার তাদের মনোবল ভাঙ্গতে পারেনি। পুরো দমে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিজয়ী হলে দলে ফেরার আশা ব্যক্ত করছেন অনেকেই। তবে আওয়ামী লীগ এদের সমস্যা মনে করছেন না। অপরদিকে শুধু সখীপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
জেলার ভুঞাপুর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নির্বাচনে চরম বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ। এমনটাই আশংকা করছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের ওই দুই বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আজহারুল ইসলাম ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম চঞ্চলকে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। দল থেকে বহিস্কার করা হলেও তারা দমে যাননি বরঞ্চ জোরেসোরে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে এসব বিষয়কে পাত্তা না দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, দল বহিস্কার করলে সে আর দলের থাকে না। বহিস্কৃতরা দলের কেউ না। বিএনপির এজেন্ট হয়ে তারা কাজ করছে। দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার পরাজয় নিশ্চিত জেনে তার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। হুমকি ধামকি দিচ্ছে। তবে নির্বাচন না করতে দলের চাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।
কালিহাতী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন খালিদ। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকেও দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম। হুমায়ুন খালিদ বলেন, প্রচারনা চালাতে মাঝে মধ্যে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। তবে জনগণের ব্যাপক সারা পাচ্ছি। আনছার আলী বিকম বলেন, সে উপজেলা আওয়ামী লীগের কেউ নন। তাকে এলাকায় কেউ চিনে না। ভোটে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না।
গোপালপুর পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হক ছানা। সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বেলায়েত হোসেন। বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমার নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা দিচ্ছে। গোপালপুর বাসস্টান্ডসহ বিভিন্নস্থানে পোস্টার লাগাদে দেয়নি। ডুবাইলে আমার নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমার কর্মিদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনে হস্তক্ষেপের দাবি জানান। এ ব্যাপারে রকিবুল হক ছানা বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। সে নির্বাচনে জামানত হারানোর ভয়ে এসব বলছে।
এদিকে ধনবাড়ি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুররুল ইসলাম তপন। সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জহুরুল হক বকল। তপন বলেন, বকল আওয়ামী লীগের সমর্থক। দলে তার কোন অবস্থান নেই। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
সখীপুর পৌরসভায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান এ খবর নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সারা দেশের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের সঙ্গে তাঁকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সানোয়ার হোসেন সজীব বলেন, আমি দলের কাছে মনোনয়নই চাইনি। দল আমাকে বহিষ্কার করেছে না রেখেছে, এটা নিয়ে ভাবি না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার আমার পক্ষে রয়েছেন। আমি বিএনপির নই, নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী।

ব্রেকিং নিউজঃ