অভিভাবকহীন কালিহাতীতে আ’লীগের ৫ বিএনপির ২ প্রার্থীর জোর লবিং

140

Tangail-kalihati-municipaliti_election_candideatস্টাফ রিপোর্টারঃ
টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) সংসদীয় আসনটি কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের এমপি না থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে কালিহাতীবাসী। এ নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠেছে কালিহাতীর পৌর এলাকা। পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ৫ এবং বিএনপির ২ প্রার্থী মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। দলীয় শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রার্থীরা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়ে ছেয়ে ফেলেছেন পৌর এলাকার অলিগলি। পাশাপাশি শক্তির জানান দিতে দু-একদিনের বিরতি দিয়ে শো-ডাউন করছেন।
আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থকদের উৎফুল্লতার শেষ নেই। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশায় দলীয় শীর্ষ নেতাদের মন জয় করতে নানা কৌশল নিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে প্রার্থীরা প্রাথমিক বিজয় হিসেবে ধরে নিয়ে দল ও মাঠে সমান তালে লবিং ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার ঘোষণায় নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পৌর এলাকা। তারা নিয়মিত গণসংযোগেও অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা ঘোষনা করেছেন ৫ জন। তারা হলেন বর্তমান পৌর মেয়র ও কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য হুমায়ুন খালিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক আনোয়ারুল হক বাবুল, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক নুরন্নবী সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতা আসলাম সিদ্দিকী ভুট্টো। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দুইজনেরই নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন কালিহাতী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আকবর জব্বার এবং বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী। এছাড়া নয়টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রায় ৫০ জন প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। বড় দুইদলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দলের সিদ্ধান্তে একমত হবেন বলে প্রার্থীরা জানান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আনছার আলীর সমর্থকরা টিনিউজকে জানায়, তিনি দলের জন্য জীবন-যৌবন সব বিসর্জন দিয়েছেন। কালিহাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে আনছার আলী জনগনের জন্য উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছেন, বর্তমানে মেয়র হিসেবেও পৌরসভার গরিব-দুঃখী মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। অতীত ও বর্তমান কর্মকান্ড মূল্যায়ন কওে মেয়র পদে দল তাকেই মনোনয়ন দিবে বলে আনছার আলী বিকম’র কর্মী-সমর্থকরা দাবি করে। তারা আরো দাবি করে উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষার্থে জনগন তাকেই বিজয়ী করবে।
এদিকে, অত্যন্ত শক্ত অবস্তানে থাকা বিএনপির আলী আকবর জব্বারের কর্মী-সমর্থকরা টিনিউজকে জানায়, দলের দুঃসময়ে-সুসময়ে সব সময়ই তিনি অতন্ত্র প্রহরীর মত দলকে আগলে রেখেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে তিনি মেয়র পদের শক্তিশালী প্রার্থী।
কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার টিনিউজকে জানান,  মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত কালিহাতীতে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ। বৃহৎ ও ক্ষমতাসীন  রাজনৈতিক দল হিসেবে দলীয় একাধিক প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যিনি মনোনয়ন পাবেন সবাই তার পক্ষে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনবে।
এছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কালিহাতী উপজেলা শাখার সভাপতি হাসমত আলী টিনিউজকে জানান, আসন্ন কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে তাদের দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর প্রচেষ্টায় কালিহাতী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১৯৯৮ সালে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। ২০১১ সালে ‘গ’ শ্রেণি থেকে কালিহাতী পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। ১৫.৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কালিহাতী পৌরসভার বর্তমান ভোটার ২৪ হাজার ৮০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ১৫০ জন ও মহিলা ভোটার ১২ হাজার ৬৫২। এ আসনের সংখ্যালঘু ভোটার শতকার প্রায় ১৪ ভাগ।

ব্রেকিং নিউজঃ