অবশেষে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার আইসিইউ

167

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
টাঙ্গাইলে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও গত ১ বছরেও টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একটি নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপন করা হয়নি। হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে। এমন অভিযোগের দীর্ঘ এক বছর পর আগামী (২ মে) হাসাপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড স্থাপিত হতে যাচ্ছে।
জানা যায়, বর্তমানে টাঙ্গাইলে মোট জনসংখ্যা ৪২ লক্ষাধিক। প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও জেলার চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার থেকে বহুগুন মানুষ হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। করোনা ইউনিট চালু হলেও জটিল রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা নেই।
জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২০২০ সালের (৮ এপ্রিল) জেলার মির্জাপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বাসাইল উপজেলায়। বিগত কয়েক মাসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে করোনার দ্বিতীয় ধাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ের থেকে বর্তমানে জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু জেলায় এখন পর্যন্ত কোন আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। এতে জটিল কোন রোগীকে ঢাকায় কিংবা অন্য জায়গায় ভর্তি হতে হচ্ছে। এতে করে তাদেরকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি। তবে এটি দুঃখজনক বিষয় যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির এক বছর পরও হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা চালু করা যায়নি।
এদিকে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে ২০২০ সালের (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন যে তার সরকার প্রতিটি জেলা শহরের হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের পদক্ষেপ নিবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা স্থাপন করা হয়নি।
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, জেলায় শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪৬৭৩ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭২ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৩৯৫১ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৯৭ জন। মোট কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪৭২৩ জন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি খান মোহাম্মদ খালেদ টিনিউজকে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাপে টাঙ্গাইল জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সে তুলনায় রোগীদের জন্য আইসিইউ ওয়ার্ড খোলা দরকার। যেহেতু এখানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং পাশাপাশি টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাপাতাল রয়েছে। সেক্ষেত্রে আইসিইউ ওয়ার্ড চালু হওয়া দরকার এবং প্রয়োজন। চালু হলে সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে। একই সাথে ঢাকায় যাওয়ার যে দুর্ভোগ তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান টিনিউজকে বলেন, করোনা রোগীদের জন্য ১০টি বেডের জন্য আইসিইউ’র কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সংযোগ দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি আগামী (২ মে) থেকে চালু করা সম্ভব হবে। হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এর কার্যক্রম চালু করা হবে। এছাড়া হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও আরো ১০টি বেডের জন্য আইসিইউ স্থাপন করা হবে। তিনি টিনিউজকে আরো বলেন, আইসিইউ’র সংযোগ দেয়ার জন্য আলাদা জনবল প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে আইসিইউ চালু হতে দেরি হচ্ছে। জনবলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আইসিইউ চালু হলে জেলার সাধারণ জনগণ অনেক উপকৃত হবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন টিনিউজকে বলেন, আইসিইউ’র স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। পর্যাপ্ত জনবল পেলে অতিদ্রুতই এর কার্যক্রম চালু করা হবে। আগামী (২ মে) থেকে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেনের লাইন দেয়া হচ্ছে। আইসিইউ’র স্থাপন শুধু টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালেই স্থাপন করা হবে। অন্য কোন উপজেলায় স্থাপন করা হবে না। এছাড়া হাসপাতালে করোনার ইউনিটে ৫০ শয্যা থেকে ৭০ শয্যাতে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ