অপার সৌন্দর্যের লীলাভুমি টাঙ্গাইলের বাসুলিয়া বিল

208

হাসান সিকদার: ইট, কাঠ আর ধূলাবালুর এই শহরে একটু সবুজ খুঁজে ফেরে চোখ দু’টি। কিন্তু সবুজের দেখা আর পাওয়া যায় না। তবে শহরের আশেপাশেই কিছু জায়গায় দেখা মেলে সবুজের। তেমনই সবুজে ঘেরা একটি জায়গা টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি এই বাসুলিয়া। এখানে সবুজ প্রকৃতি আর নীল পানি মিলে এক অপূর্ব সৌন্দর্য্যের মিলন ঘটিয়েছে। রাস্তার দু’ধারে দিগন্তের নিচে পানি আর পানি। এর পূর্ব-দক্ষিণাংশে দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান হিজল গাছ। স্থানীয়দের ধারণা, হিজল গাছটির জন্ম এখানে নয়। সেই প্রাচীন যুগে এটি নিয়ে আসা হয় আসাম রাজ্য থেকে। বিলের পানিতে নৌকায় নেচে গেয়ে ঘুড়ে ক্লান্ত হয়ে শরীরটা জুড়িয়ে নেন ভাসমান হিজল গাছের ছায়ায়। দিনের ক্লান্তি শেষে কাজের ফাঁকে অনেকেই ঘুরতে আসেন এখানে। নৌকায় বিলে ঘুরে বেড়ানোর মজা সবার কাছেই উপভোগ্য।

 

টাঙ্গাইল শহর থেকে বাসুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। টাঙ্গাইল থেকে বাসাইল গিয়ে সখীপুর সড়ক ধরে মাত্র তিন কিলোমিটার পেরোলেই বাসুলিয়া। সখীপুর যাওয়ার সময় ডান দিকে চোখে পড়বে বিশাল চাপড়া বিল। সড়কে দাঁড়ালে দক্ষিণের জলরাশি ছুঁয়ে আসা মিষ্টি হাওয়া মন জুড়িয়ে দেয়। শুরুর দিকে লোকজন এই জায়গাকে ঢাকার আশুলিয়া বাঁধের দক্ষিণে জল-হাওয়ার সঙ্গে তুলনা করতো। তখনই চাপড়া বিলের কিনারাকে ‘বাসুলিয়া’ নামে ডাকা হয়। সেই থেকে সময়ের পরিবর্তনে লোকমুখে স্থানটি ‘বাসুলিয়া’ নামে পরিচিতি পায়।

 

বাসুলিয়া ইতোমধ্যে বেড়ানোর জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এলাকাটি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। উপচেপড়া ভিড়ের কারণে নৌকায় উঠতেও অনেকের পেছনে অপেক্ষমাণ থাকতে হয় দর্শনার্থীদের। উপজেলায় বিশেষ কোনও দর্শনীয় স্থান না থাকায় চিত্তবিনোদনের জন্য বাসুলিয়াকে বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা। অপূর্ব শান্তিময় সবুজের মাঝে নীল পানির বিলে নৌকায় করে ভেসে বেড়াানোর মজাটা অন্যরকম।
দর্শনীয় এ বিলের মূল আকর্ষণ হলো এর মাঝখানের দাড়িয়ে থাকা শত বছরের বুড়ি গাছটি। শীতল বাতাসে গাছের সাথে নৌকা বেঁধে, ছায়ায় বসে থাকতে ভালো লাগবে যে কারো।

 

এখানকার মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আসে। ঘুরতে এসে পরিচিত মুখের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মতো ঘটনাও আছে। সব মিলিয়ে বাসুলিয়া এখন পরিণত হয়েছে মানুষের মিলনমেলায়।
দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য বাসুলিয়ায় বসে অস্থায়ী দোকান। এছাড়া আছে স্থায়ী কয়েকটি ফাস্টফুডের দোকান।

 

বাসুলিয়াকে আরও সৌন্দর্যমন্ডিত করতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যুক্ত হয়েছে লাইটিং। এছাড়া সড়কঘেঁষে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ ও একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। দর্শনীয় স্থান বাসুলিয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশি টহল থাকে। এছাড়া শীত মৌসুমে প্রতিবছর এখানে অতিথি হয়ে আসে ভিনদেশি পাখি। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে চাপড়া বিল। দর্শনার্থীরাও ভিড় করেন পাখি দেখতে। অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে ঝাঁক বেঁধে একসঙ্গে আকাশে উড়ার দৃশ্য বিমোহিত করে দর্শনার্থীদের।
এখানে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নানান আকৃতির নৌকা পাওয়া যায় বিলের ঘাটে। দরদাম করে নৌকা ভাড়া নিতে হয়। ঘন্টা চুক্তিতে ভাড়া তরতে হয় এখানকার নৌকাগুলো।
যেভাবে যাবেন: বাসে বা ট্রেনে টাঙ্গাইল এসে স্থানীয় পরিবহণে অনায়াসে যেতে পারবেন বাসুলিয়া।

ব্রেকিং নিউজঃ