অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে মসজিদে মসজিদে ছুটছেন কালিহাতী থানার ওসি

222

সোহেল রানা, কালিহাতী ॥
অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে ও করোনা প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে ছুটছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার কস্তুরিপাড়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শুক্রবার (৩০ জুলাই) জুম্মার নামাজের খুতবা পড়ছেন খতিব। বেলা সোয়া একটা। খতিবের খুতবা শুনছেন মসজিদের ভিতরে এবং বাইরে চারপাশে থাকা শত শত মুসল্লি। পুরো মসজিদে নিরবতা। এক সময় ইমাম সাহেব খুতবা শেষ করলেন তারপর জুম্মার নামাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু খুতবা শেষ হতেই ইমামের পাশে বসা একজন মুসল্লি দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করলেন। প্রথমে নিজের পরিচয় দিলেন তিনি কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা আজিজুর রহমান।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য শুরু করলেন এভাবে- “আমি আপনাদের সাথে সালাম বিনিময়, দোয়া নিতে এবং দুটি কথা বলতে দাঁড়িয়েছি। নামাজের আগ মূহুর্তে আমি বেশি সময় নিব না। প্রতি শুক্রবার একেকটি এলাকার একেকটি মসজিদে যাচ্ছি। এ সময় তিনি মাদক, কিশোর গ্যাংসহ সমসাময়িক বিভিন্ন অপরাধের আইনি ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, মদ এবং জুয়া সমাজের মধ্যে ত্রাস ও হানাহানি মারামারি সৃষ্টি করে। নৈরাজ্য সৃষ্ট করে। অথচ আজ আমাদের সমাজে এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের যুবক সমাজ এসব মাদক, জুয়া ও নানান অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে। মাদক হচ্ছে অপরাধের মা। সে অপরাধ জন্ম দেয়। যার মুখে মাদকের ছোঁয়া লাগে সে অপরাধী হবেই। এখানে যারা বাবা আছেন আপনাদের সন্তানদের খোঁজখবর রাখার দায়িত্ব আপনার। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো আপনারা আপনাদের সন্তানদের একটু খোঁজখবর রাখেন। সে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কি করছে। আপনাদের অজান্তে ছেলেরা অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। একবার যদি বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পরে তারা সেখান থেকে বের হতে পারে না। এতে সমাজে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ জঙ্গিবাদের মতো বড় বড় অপরাধ বেড়ে যায়। দিনে লেখাপড়া, ব্যবসা বাণিজ্য আর চাকরি যা কিছু করুক না কেনো সন্ধ্যার পর পরিবারের সঙ্গে থাকলে কেউ মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়াবে না। তাই সন্ধ্যার পর আপনার সন্তানকে নিয়ে ঘরে থাকুন।”
এ সময় বর্তমান পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে কোন ধরণের অবৈধ লেনদেন ছাড়াই পুলিশের যেকোন সেবা গ্রহণ করা যাবে বলে মুসল্লিদের আশ্বস্ত করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মুসল্লিদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার চুক্তি করেন ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান। তিনি নিজের নম্বর মুসল্লিদের দিয়ে আহ্বান করেন অপরাধীর তথ্য প্রদানের জন্য এবং মুসল্লিদের সাইবার ক্রাইম ও গুজব সম্পর্কে ধারণা দেন। তারা যেন এ ধরণের অপরাধ শনাক্তসহ নিজেদের এ ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়া বর্তমানে পুলিশের আধুনিক সেবা ৯৯৯ এর ব্যবহার সম্পর্কেও অবগত করেন।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে মসজিদের জুম্মার নামাজে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সবচেয়ে আস্থার জায়গা মসজিদে দাঁড়িয়ে বলছি, এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আপনারা শুধু আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। বাকি বিষয়গুলো আমরা পুলিশ দেখব। সম্ভাব্য তথ্য থাকলে আমাদেরকে দিবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। আমি আপনাদের সবচেয়ে আস্থার মানুষ হতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘মসজিদে কথা বলার কারণ হচ্ছে, এখানে কথা বললে সবাই শোনেন। আমি যেখানে যাই সে জায়গার ভালো মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক করি। আর আজ যারা মসজিদে এসেছেন, আমি মনে করি তারা অবশ্যই ভালো মানুষ। আপনারা যেকোনো বিষয়ে আমার থানায় গিয়ে যোগাযোগ করবেন। আমার দরজা সব সময় আপনাদের জন্য উন্মুক্ত।
মসজিদ কমিটির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি চাই এই মসজিদ কমিটিও এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।’ এ সময় ওসি করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্যও মুসল্লিদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, মহামারি করোনা মোকাবেলায় সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। হাট বাজার, চায়ের দোকানসহ অলিগলিতে অযথা আড্ডা বন্ধ করতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ