মির্জাপুরে শত কোটি টাকার সরকারি খাস পুকুর উদ্ধার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন শত কোটি টাকা মূল্যের ৮৪ শতাংশ সরকারি খাস পুকুরের মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ৮৪ শতাংশ পুকুর ভরাটের কাজে বাঁধা দিয়ে সরকারি সাইন বোর্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ফলে শত কোটি টাকার পুকুরের ভরাটের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে পুকুরের ক্রয় সূত্রে মালিক ফিরোজ হায়দার খান সম্পত্তি থেকে সাইন বোর্ড অপসারণসহ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ দিয়ে গত রবিবার (১৭ মে) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই মমিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যুবায়ের হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টিনিউজকে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পুকুর ভরাট করে রাতারাতি দখল হওয়ায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোড়াই মমিন নগর মৌজার সরকারী খাস পুকুরের মাটি ভরাট বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইন বোর্ড দেয়া হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলের গোড়াই মমিন নগর মৌঁজায় খতিয়ান নং (ইজা-১)-৩০৯, দাগ নং-২৮৬১ কাতে ৮৪ শতাংশ (শ্রেণী পুকুর) সরকারি সম্পতি। ৮৪ শতাংশ খাস পুকুরটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। গোড়াই নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে ও বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান পুকুরটি ক্রয় সূত্রে মালিক দাবী করে ভোগ দখল করে আসছেন। এই সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। মামলার বাদী ফিরোজ হায়দার খান। মামলা নং-৫৭৯১/২০১০। হাইকোর্টে মামলার পর এই সম্পত্তি নিয়ে বিচারক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বিগত ২০১০ সালে। এদিকে পুকুরের চার পাশ ভেঙ্গে যাওয়ায় বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট করছেন বলে অভিযোগ উঠে। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যুবায়ের হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল মালেক গত (১৭ মে) গোড়াই মমিন নগর এলাকায় পরিদর্শন করে পুকুরে মাটি ভরাট বন্ধ করে দেন এবং নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাইন বোর্ড দিয়েছেন বলে সার্ভেয়ার ওমর ফারুক জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, গোড়াই মমিন নগর মৌঁজায় খতিয়ান নং (ইজা-১)-৩০৯, দাগ নং-২৮৬১ কাতে ৮৪ শতাংশ সম্পত্তি আমি সাবেক বিগ্রেডিয়ার মোশারফ হোসেন সানুর বোন মিসেস জেবুন নেছা বেগমের নিকট থেকে সাব কবলা দলিল নং-২৮১১/০৭ এবং ২৪১২/০৭ মুলে ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছি। আমার নামে দলিল, খাজনা, খারিজ ও ডিসিআর রয়েছে। আমার বাড়ির আশপাশ পুকুরে ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ্ হওয়ায় পুকুর সংস্কার করতে গেলে প্রশাসন হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্যায়ভাবে মাটি ভরাট বন্ধ করে দিয়েছেন। ন্যায় বিচার চেয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক বরাবর আমি আবেদন করেছি। প্রয়োজন হলে মহামান্য আদালতে আশ্রয় নেব।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, গোড়াই মমিন নগর মৌঁজায় খতিয়ান নং (ইজা-১)-৩০৯, দাগ নং-২৮৬১ কাতে ৮৪ শতাংশ সম্পতি (খাস পুকুর) নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ সরকারী খাস পুকুরে প্রবেশ করতে ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে না। বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খান মামলা শেষ না হলেও অন্যায়ভাবে পুকুর ভরাট করে দখলের চেষ্টা করেছেন। ফলে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ