Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জন গ্রেফতার

শেয়ার করুন

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
টাঙ্গাইলের নতুন বাসটার্মিনাল সংলগ্ন ডিসি লেকপাড়ে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষন করা হয়েছে। বখাটেরা ওই গৃহবধুকে ৩টি স্থানে নিয়ে রাতভর পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে পৌর এলাকার চরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে। সকালে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে গণধর্ষণের সাথে জড়িত ছয়জনকে আটক করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন টিনিউজকে জানান, আটককৃত তিন ধর্ষক ইউসুফ, রবিউল ইসলাম রবিন ও জাহিদুল ইসলাম শনিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কুমার সরকারের আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও ধর্ষিত গৃহবধু ২২ ধারায় ধর্ষন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর তিন আসামী ইব্রাহিম, মফিজ ও তানজিরুল ইসলাম তাছিনকে তিনদিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
জানা গেছে, ওই গৃহবধু মির্জাপুরের গোড়াইয়ে একটি পোশাক প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তার স্বামী ওই এলাকায় একজন নির্মান শ্রমিক। তাদের গত ১০ মাস আগে বিয়ে হয়েছে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে গৃহবধু তার স্বামীকে নিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বাবার বাড়ি থেকে মির্জাপুর উপজেলায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। কালিহাতী থেকে সিএনজি করে রাত ১০টার দিকে টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে তারা এসে নামেন। পরে তারা নতুন বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে মির্জাপুর যাওয়ার চিন্তা ছিল। বাস টার্মিনালে সিএনজি থেকে নামার পর তিন বখাটে ওই গৃহবধুর স্বামীকে ডেকে দূরে নিয়ে যায়। দূরে নিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। আর তিনজন ওই গৃহবধুকে জোরপুর্বক লেকের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিয়ে বলে আমাদের কথা না শুনলে তোর স্বামীকে আমরা মেরে ফেলবো। দুইজনে স্বামীকে আটকিয়ে রাখে আর তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে ইউসুফ। পরে রবিউল ইসলাম রবিন। এরা দুইজনে ধর্ষণ করে মফিজ নামে এক ধর্ষকের হাতে তুলে দেয়। মফিজ ও আরো দুই তিনজনে ওই গৃহবধুকে কোদালিয়া এলাকায় নিয়ে রাতভর ধর্ষন করে। ওই গৃহবধুর স্বামী মারধরের শিকার হয়ে রাত ১২টার দিকে ধর্ষক ইউসুফ ও রবিনের কাছ থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার এক সিএনজি চালকের সাহায্যে টাঙ্গাইল টহল পুলিশের কাছে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলেন। পরে সদর থানা পুলিশের চারটি দল বিভক্ত হয়ে রাতভর শহরের বিভিন্নস্থানে ধর্ষণকারীদের ধরতে অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শহরের কোদালিয়া এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে বখাটে ইউসুফ, আব্দুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন, ফজলু মিয়ার ছেলে মফিজ, দেওলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, আল বেরুনির ছেলে ইব্রাহিম ইবনে আলবেরুনি ও কোদালিয়া এলাকার রকিবুল ইসলামের ছেলে করটিয়া সা’দত কলেজের ছাত্র তানজিরুল ইসলাম তাছিনকে আটক করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান টিনিউজকে বলেন, ঘটনা জানার পর পুলিশ ভোর রাতেই অভিযানে নামে। আমরা ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। মুলত ইউসুফ, রবিন ও জাহিদুল ইসলাম এই তিনজনে মিলে গণধর্ষণ করেছে। তারা তিনজনে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আর অন্যরা গণধর্ষনে সহযোগিতা করেছে। এছাড়া উজ্জল ও হাসান নামে এদের আরো দুইজন সহযোগি রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা টিনিউজকে বলেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ জাকিয়া সাফিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠণ করা হয়েছে। তারা গণধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করেছে। রিপোর্ট আসলেই গণধর্ষণের বিষয়টি জানা যাবে। তবে আলামত থেকে গণধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
মামলার বাদি ধর্ষিতার স্বামী টিনিউজকে বলেন, আমি আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। এদিকে শনিবার দুপুরে ধর্ষিত ওই নারীর স্বামী বাদি হয়ে গ্রেফতারকৃত ছয়জন ও পলাতক উজ্জল ও হাসানসহ মোট আটজনকে আসামী করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় টিনিউজকে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত প্রায় সবাইকে পুলিশ দ্রুততার সাথে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অপর আসামীদের দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ