Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

সন্তোষের ভাঙ্গা লালপুলটি সংস্কার না করায় ভোগান্তি চরমে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল পৌর শহরের সন্তোষে ভেঙ্গে যাওয়া লালপুলটি পুননির্মান না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণ। মানুষের চলাচলে এই ভোগান্তি লাঘবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কারও যেন নজরে আসছে না। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ অসহনীয় কষ্ট নিয়ে চলাচল করছে।
জানা যায়, গত (১১ মে) ভোরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চাড়াবাড়ী সড়কের পৌর শহরের সন্তোষ বাজারের পশ্চিম পাশে ”লালপুল” নামে খ্যাত বেইলী ব্রিজে বালুভর্তি একটি বড় ট্রাক উঠে গেলে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ার পর জনসাধারণের চলাচলের জন্য এলজিইডি এই ভাঙ্গা ব্রিজের নিচে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত একটি সুইসগেটকে বিকল্প ব্রিজ হিসেবে ব্যবহার করে একটি এ্যাপোচ সড়ক নির্মান করে দেয়। এখন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের পোড়াবাড়ী, দাইন্যা, কাতুলী, হুগড়া ও মাহমুদনগর ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই বিকল্প ব্রিজ ব্যবহার করে যাতায়াত করছে। বিকল্প সড়ক ভারি যান চলাচল করার অনুপযোগী এবং এ্যাপোচ সড়কটি এবড়ো থেবরো হওয়ায় হালকা যান চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমএম আলী কলেজ ও সন্তোষ জাহ্নবী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে ব্রিজটি পুননির্মান না হওয়ার কারণে।
সড়কে চলাচলকারী সিএনজি-অটোচালক, মোটরসাইকেল আরোহী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা টিনিউজকে বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর ব্রিজটি ভেঙে গেছে একমাস হয়েছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কারও যেন কোন মাথা ব্যথা নেই। তারা গা-ভাসিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন। সড়কে চলাচলকারী কাবিলা পাড়ার সিএনজি চালক মুছা মিঞা টিনিউজকে বলেন, এই সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টের। যাত্রীদের ব্রিজের রক্ষিত বেলতা অংশে নামিয়ে দেই। ফলে যাত্রীদের হেটে ব্রিজ পার হয়ে অপর প্রান্তে গিয়ে সিএনজিতে চড়তে হয়। এ কারণে যাত্রীদেরও সমস্যা হচ্ছে। আমাদের আয় কম হচ্ছে। অটো চালক মনিরুল হক টিনিউজকে বলেন, এই ব্রিজে চলাচলের সময় খুব ভয়ে থাকি। একবার এই ব্রিজের ঢাল বেয়ে নামার সময় যাত্রী নিয়ে উল্টো পড়ে গিয়েছিলাম। এছাড়া এই সড়ক ও ব্রিজ ব্যবহারের ফলে অটোর অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সরকারী এমএম আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পানিয়াবান্দা গ্রামের খায়রুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, আমাদের দু’টি কলেজ বাস এই ব্রিজ ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রী আনা নেয়া করতো। বর্তমানে বাস দু’টি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দ্রুত বিজ্রটি নির্মানের জোর দাবী জানান তিনি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহরিয়ার সৈকত টিনিউজকে জানান, ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী থাকে। বর্তমানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ও ৪ নাম্বার গেট ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। এতে অনেক পথ ঘুরে তাদের আসতে হচ্ছে। ফলে অনেক সময় তারা ক্লাসে দেরিতে উপস্থিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে যত দ্রুত সম্ভব ব্রিজটি নির্মানের দাবী জানাচ্ছি। তোরাবগঞ্জ বাজারের পল্লী চিকিৎসক বসির আহমেদ ক্ষোভের সাথে টিনিউজকে বলেন, এই ব্রিজের কারণে রোগী পরিবহনে অন্য সড়ক ব্যবহার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এতে সময় অনেক বেশী লাগছে। আর্থিক খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ফারুক হোসেন টিনিউজকে বলেন, এই সড়কে নতুন করে এই ব্রিজ নির্মান করা হবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা হয়েছে। তাদের নির্মিত সুইচ গেটটি ব্রিজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার সাথে লেভেল করে নতুন করে সড়ক নির্মান করা হবে। আগের ব্রিজটি অনেক আগে নির্মান করা হয়েছিল। ফলে সেটা অনেক উচু ছিল। বতমার্নে সুইস গেটটি রাস্তার লেভেলে আছে। তাই শুধু মাত্র এ্যাপোচ সড়ক নির্মান করা হবে। এই প্রকল্পটি মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব দ্রুতই সড়কটি নির্মান কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ