Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অভাবে সেবা ব্যাহত

শেয়ার করুন

সখীপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় সাত মাস ধরে গাইনি চিকিৎসক নেই। সাত জুনিয়র কনসালটেন্ট ও আটজন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদও শূন্য। দেড় বছর ধরে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাও নেই। ফলে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে গরিব রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এদিকে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ছয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারটিতেই চিকিৎসা কর্মকর্তা না থাকায় মাঠ পর্যায়েও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৮ সালের (১৯ আগস্ট) জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) তাজমিরা সুলতানা পদন্নতি পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। এরপর সাতমাস পার হলেও এ হাসপাতালে ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে এ হাসপাতালে মাতৃ স্বাস্থ্য ভাউচার প্রকল্প (ডিএসএফ) ও প্রসূতি সেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মিজানুর রহমান টিনিউজকে জানান, ১০টি জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ থাকলেও জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, মেডিসিন, চক্ষু, ইএনটি, অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি ও শিশুসহ সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। বাকি তিনপদে তিনজন থাকলেও জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) মতিউল ইসলাম এক মাসের অর্জিত ছুটিতে রয়েছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তার আটটি পদের মধ্যে চারজন কর্মরত। আতোয়ার রহমান নামের একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ কোর্সে গিয়েছেন ও শাহীনুর আলম বর্তমানে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন থাকলেও ছয়টি ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে রোগীদের সেবা দিতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ থাকলেও চারটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেই চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই।
কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম কামরুল হাসান টিনিউজকে বলেন, আমার ইউনিয়নের বড়চওনা বাজারে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই। ফলে সামান্য অসুখে রোগীরা সেবা না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসছে। ফলে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার কালিদাস গ্রামের হনুফা বেগম প্রসূতি সেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে গাইনি চিকিৎসক না পেয়ে স্থানীয় ক্লিনিকে গিয়ে মা হন। হনুফার স্বামী অটোভ্যান চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা পেলে আমার তেমন খরচ হতো না। উল্টো ডিএসএফ প্রকল্প থেকে আড়াই হাজার টাকা পেতাম। ক্লিনিকে নেয়ায় আমার ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে স্বজনদের কাছ থেকে ধার নিতে হয়েছে।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন টিনিউজকে বলেন, সাত জুনিয়র কনসালটেন্ট, আটজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার কথা স্বীকার করেন। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন আকারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও গত দুই মাস ধরে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি চিকিৎসক নিলু শারমিনকে সপ্তাহে দুইদিন ধার করে এ হাসপাতালে সিজারিয়ান কাজ চালু রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ