সখীপুরে নাশকতার মামলায় যুবদল নেতার নাম অর্ন্তভূক্ত

শেয়ার করুন

মোস্তফা কামাল, সখীপুর ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের দায়ের করা নাশকতার মামলায় ১৬ নম্বর আসামী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদকের নাম বাদ দিয়ে উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতির নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রতিবাদ সভা করার পর তৎক্ষনাত সখীপুর থানা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সখীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত (৭ সেপ্টেম্বর) নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ এনে সখীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির ১৫ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক নেতাকে আসামি এবং আরও ৫০-৬০জনকে অজ্ঞাত নাম দিয়ে মামলা করেন। ইতিমধ্যে থানা পুলিশ বিএনপির ৬ নেতাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় ডাকবাংলো চত্ত্বরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর জুলফিকার শামীমের বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম সখীপুর থানার ওসিকে সাত দিনের মধ্যে নাম কাটার দাবি জানান। অবশেষে মামলার চারদিন পর পুলিশ ওই মামলার আসামি থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মীর জুলফিকার শামীমের নাম বাদ দিয়ে সেখানে উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শামীম আল মামুনের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়। গত (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে হঠাৎ করে সখীপুর উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় বিএনপির নেতাদের বাসায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়। ওই রাতে পাঁচজন ও পরে একজনকে ধরে গত (৭ সেপ্টেম্বর) নাশকতার প্রস্তুতির মিথ্যা অভিযোগ এনে ১৬ জন বিএনপি নেতার নাম ও ৫০-৬০জন অজ্ঞাতনামা আসামি লিখে একটি মামলা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই মামলার ১৬ নম্বরের আসামির নাম লেখা হয় জুলফিকার শামীম। পিতার নাম মওলানা আবুল হোসাইন। ঠিকানা লেখা হয় সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড। নামটির সঙ্গে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদকের নাম ও পিতার নাম হুবহু মিলে যায়। তবে মামলায় ওই নেতার ঠিকানায় ৪ নম্বর ওয়ার্ড লেখা থাকলেও ওই নেতার বাড়ি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে।
মামলার তদন্তকারী পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান টিনিউজকে জানান, তদন্ত করে মামলার এজাহার সংশোধন করা হয়েছে। ১৬ নম্বর আসামি হিসেবে জুলফিকার শামীম নামটি সংশোধন করে শামীম আল মামুন করা হয়েছে। পিতার নাম আবুল হোসেনের পরিবর্তে রাঙ্গু মিয়া লেখা হয়েছে। সংশোধিত আসামি শামীম আল মামুন উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি। তিনি বর্তমানে সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাড়াটিয়া বাসায় থাকেন।
পালিয়ে থাকা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও নতুন আসামি শামীম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে ওই মামলায় আমার নাম ছিল না। পুলিশের ভুলের খেসারত অবশেষে আমাকে বইতে হচ্ছে। আমার নামের এক অংশে শামীম থাকায় পুলিশ কৌশল করে আমার নামটি সংযোজন করে দিয়েছেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম তুহিন আলী টিনিউজকে বলেন, মামলায় সবই ঠিক ছিল শুধু পিতার নাম লিখতে ভুল হয়েছিল। তদন্ত করে এজাহারে সংশোধন করা হয়েছে। আসীমকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ