Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

সখীপুরে কাগজে কলমে হাসপাতাল থাকলেও বাস্তবে নেই

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপনা থাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কাগজ কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে নেই। স্থপনাবিহীন ওই দুই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগ থাকলেও তারা প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই দুটি ইউনিয়নের গ্রামপর্যায়ের দুই লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দুটির ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা বলছেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলছেন, প্রতিটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিদাতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র টিনিউজকে জানায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে কাঁকড়াজান, বহেড়াতৈল, কালিয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নে বাস্তবে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নে কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। এছাড়া দাঁড়িয়াপুর ও বহুরিয়া ইউনিয়নে কাগজ-কলমেও কোনো হাসপাতাল নেই। বিগত ২০০৮ সালের (৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়কের পদ সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই পদের বিপরীতে নিয়োগও দেয়। তবে ওই পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বাস্তবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপন না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে যাদবপুর ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাগজ কলমে চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার) হিসেবে সুশান্ত কুমার সাহা ও উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) মোস্তফা কামাল কর্মরত রয়েছেন। ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে। হাতীবান্ধা ইউনিয়নে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে শামীমা আহমেদ ও উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মরর্তা রাশিদা আক্তার রয়েছেন। ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। আর যাদবপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুশান্ত কুমার সাহা এক বছর আগে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দিয়ে প্রেষণে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও মোস্তফা কামাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। হাতীবান্ধা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শামীমা আহমেদ ও রাশিদা উভয়েই বর্তমান সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। যোগাযোগ করলে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মরর্তা মোস্তফা কামাল টিনিউজকে বলেন, আমি চার বছর ধরে স্থাপনা বিহীন হাসপাতালে চাকরি করছেন। কাগজে কলমে একই হাসপাতালে চাকরি করলেও আমার সহকর্মী সুশান্ত কুমার সাহাকে আমি কখনো দেখিনি। কারণ হচ্ছে, আমি যে হাসপাতালে কাজ করার জন্য নিয়োগ পেয়েছি, বাস্তবে ওই ইউনিয়নের কোথাও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো অস্থিত্ব নেই।
যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন টিনিউজকে বলেন, তাদের ইউনিয়নে কাগজে কলমে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছে। অথচ তাদের তা জানা নেই। ফলে তাদের দুটি ইউনিয়নের দুই লাখ গ্রামবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দুই চেয়ারম্যান প্রয়োজনে স্থানীয় সংসদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপনা নিমার্ণের ব্যবস্থা করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকরল্পনা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন টিনিউজকে বলেন, তিনি প্রায় বছর খানেক ধরে এখানে কাজ করছেন। তার কার্যালয়ের প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিষয়ে যাবতীয় তথ্যাবলি টাঙিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, ওই দুই চেয়ারম্যান এ সম্পর্কে না জানলে আমার কী করার আছে। তবে আমি ওই দুই চেয়ারম্যানকে কথা দিতে পারি, প্রতিটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিদাতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ