সখীপুরে এসএসসি ফরম পূরণে পাঁচ শিক্ষার্থী বিপাকে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পাঁচ শিক্ষার্থী মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করে বিপাকে পড়েছে। বিদ্যালটির প্রধান শিক্ষক গত এক মাসে ফরম পূরণ বাবদ দফায় দফায় টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কোন রশিদ দেননি। গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান শিক্ষক জনপ্রতি আরও তিন হাজার টাকা দাবি করেন। এ অবস্থায় বিপদে পড়ে রোববার (১৯ জানুয়ারি) পাঁচ শিক্ষার্থী সখীপর প্রেসক্লাবে এসে হাজির হয়। আদৌ ফরম পূরণ হয়েছে কিনা তা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এই পাঁচ শিক্ষার্থী হলো- উপজেলা সিলিমপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, ময়থাচালা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম, পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় রমজান আলীর ছেলে মোহাম্মদ রাব্বি, বগা প্রতিমা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে আতিক হাসান ও একই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে সাগর আলী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা টিনিউজকে জানায়, প্রথম তিন শিক্ষার্থীর পাইলট মডেল গভ. স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবং শেষ দু’জন সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়। বোর্ডের বিধি মোতাবেক তারা ফরম পূরণ করতে না পেরে মির্জাপুর মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরান হোসেনের কাছে যায়। তিনি পাঁচ শিক্ষার্থীও কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করেন। দর কষাকষির একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় ফরম পূরণ করে তারা।
পরে প্রধান শিক্ষক নানা কারণ দেখিয়ে জনপ্রতি আরও ৮ হাজার টাকা আদায় করেন। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ফোন করে আরও তিন হাজার টাকা করে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। টাকা না দিলে ফরম পূরণ হবে না বলে হুমকি দেন। শিক্ষার্থী শামীমের বাবা দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার সময় তিনিও গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক রশিদ ছাড়াই গোপনে টাকা আদায় করেন। ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিভাবকরা টাকা দেন। এরপর প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আরও ৮ হাজার টাকা নেন। এখন আরও টাকা দাবি করছেন। অভিভাবক দেলোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, এখন আমরা কি করব। আরও চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার ছেলে আদৌ পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবু নাসের ফারুক টিনিউজকে বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কোন সুযোগ নেই। আমার বিদ্যালয় থেকে ফেল করে শিক্ষার্থীরা কিভাবে পাশের উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করে তা ভেবে পাই না। নিশ্চয়ই ওই প্রধান শিক্ষক দুই নাম্বারি করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর বাঁশতৈল মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমরান হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, আমি কোন সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করি না। এটা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।
সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের সুযোগ নেই। মির্জাপুরের বিদ্যালয়টিও ফরম পূরণ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে প্রতারিত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রহমান টিনিউজকে বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ