সখীপুরে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় পলাতক সোর্স গ্রেফতার

শেয়ার করুন

সখীপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় পলাতক সেই সোর্সকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙা বেলতৈল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আল-আমিন (২৫) উপজেলার ভাওড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার এসআই ওমর ফারুক টিনিউজকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর সে আত্মগোপেন ছিল। তাকে আগামীকাল রোববার (১ ডিসেম্বর) ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। আল-আমিন পেশায় ভ্যান চালক। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মির্জাপুর উপজেলার বাশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই, দুই কনস্টেবল এবং ১ সোর্সকে ২দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনায় পলাতক দুই কনস্টেবলকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সখীপুর থানার এসআই আয়নুল হক বাদি হয়ে গ্রেফতারকৃত পুলিশের ওই ৩ সদস্য ও সোর্সসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতাররা হলো- মির্জাপুর উপজেলার বাশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল সাহা, রাসেল ও পুলিশের সোর্স হাসান। এ ঘটনায় পলাতকরা হলো- ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল হালিম ও মোজাম্মেল এবং পুলিশের সোর্স রাজাবাড়ির আল আমীন।
পরে এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করে। পরে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে ৩ পুলিশ সদস্য ও ১ সোর্সের ২দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রিয়াজুলের নেতৃত্বে ৫ পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের হতেয়া-রাজাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় যান। তাদের সাথে দুই সোর্সও ছিল। সেখানে তারা হতেয়া ভাতকুড়া এলাকার ফরহাদের ছেলে দিনমজুর বজলু মিয়ার (২৬) পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে জোর করে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বজলু চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ওই অটোরিকশা আটক করে। পরে বজলু উপস্থিত লোকজনকে ‘পুলিশ তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে অটোরিকশায় তুলেছে’ একথা জানালে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে তাদের আটক করে। পরে তাদের পকেট তল্ল¬াশি করে কয়েক প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকে গণপিটুনি দিতে থাকলে কনস্টেবল হালিম ও মোজাম্মেল এবং তাদের অপর সোর্স আলামিন পালিয়ে যায়। পিটুনি দিয়ে এএসআই রিয়াজুলসহ কনস্টেবল গোপাল সাহা ও রাসেলকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ খবর জানতে পেরে রাতেই মির্জাপুর ও সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত পুলিশদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল সখীপুর থানাধীন হওয়ায় আটককৃতদের সখীপুর থানায় সোর্পদ করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ