শুভ সুন্দরের প্রতিমা সুদৃশ্য তোরণ ॥ শেষ মুর্হুতে কেনাকাটার ধুম

শেয়ার করুন

রঞ্জিত রাজ ॥
বাঙালীর অভাব-অভিযোগ যতই থাকুক, উৎসবের রঙে সাজতে বিশেষ বিলম্ব হয় না। উপলক্ষ লেগেই থাকে। তবে এখন ছোট-খাট কিছু নয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের মতো বড় বর্ণাঢ্য আয়োজন চলছে। ঢাকে বাড়ি পড়েছে, বেজেছে শঙ্খ। আনন্দে ভাসছে শহর-গ্রাম। ভক্তদের দর্শন দিতে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে এসেছেন দশভুজা দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। নতুন জামা-কাপড়ে সেজে বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে বেড়াচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নাচছেন, গাইছেন। চলছে খাওয়া-দাওয়া, বেড়ানো। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বাদ যান না। সবার অংশগ্রহণে দারুণ মুখরিত হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক বাংলা।
শারদীয় দুর্গোৎসবে গত মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ছিল মহালয়া। সনাতন ধর্ম মতে, এদিন দেবী দুর্গা পা রাখেন মর্ত্যলোকে। ভোরে মন্দিরে মন্দিরে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আনন্দময়ীর আগমী সুরে পূজা মন্ডপগুলোতে অনুরণিতের মধ্য দিয়ে মহাসপ্তমী পালিত হচ্ছে। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবকে সামনে রেখে সাজছে টাঙ্গাইল জেলার পূজা মন্ডপগুলো।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ি এ বছর এক হাজার ৯৪টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গলির মুখে দাঁড়িয়েছে সুদৃশ্য তোরণ। রাতে আলোকসজ্জায় চারিদিকে মম করছে। এতে উৎসবের রংটা সবার চোখে পড়ছে বৈকি! জেলার বিভিন্ন মন্ডপগুলোর চিত্র এখন এমনি। সাজসজ্জা ও আলোর ঝলকানি ও রংতুলিতে আপন চেহারায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছেন দেবী দুর্গা। প্রতিবারের মতো জেলার সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় মন্ডপগুলো তৈরি হয়েছে টাঙ্গাইল, পাথরাইল, চন্ডি, করটিয়া, মির্জাপুর, কালিহাতীতে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অনেক দিন ধরে চলে এসব মন্ডপ নির্মাণের কাজ। সূক্ষ্ম নক্সা ফুটিয়ে তোলার কাজ করেছেন শিল্পীরা। এছাড়া জেলার অন্য মন্ডপগুলোতেও মহাউৎসব চলছে।
এদিকে, উৎসব উপলক্ষে চলছে শেষমুর্হুতের জমজমাট কেনাকাটা। জেলার ছোট-বড় প্রায় সব মার্কেট, শপিংমলে এখন বাড়তি ভিড়। গত কয়েকদিন মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ ভরপুর। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন পোশাক চাই। সেই পোশাকের খোঁজ চলছে। পূঁজার কেনাকাটা করতে এসেছিলেন শ্যামল সরকার। একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেন। তিনি টিনিউজকে বললেন, আমাদের কেনাকাটা আরও আগেই শেষ হয়েছে। পূঁজার ছুটিতে বাবা-মা’র সাথেই কাটাবো। তাদের জন্য শাড়ি-পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। শো-রুমে কথা হয় নন্দিতা ও আরতির সঙ্গে। দুই বোন এসেছিলেন শাড়ি কিনতে। ছোট বোন আরতি টিনিউজকে বললেন, পূঁজাতে শাড়ি না হলে হয় না। সাজটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এ কারণেই শাড়ি কিনতে আসা। শাড়ি কেনার পর এর সঙ্গে মিলিয়ে অন্য কেনাকাটা করবেন বলে জানান তিনি।
আলাদা করে বলতে হয় নারীদের কথা। পরিবারের নারী সদস্যরা নতুন করে শাঁখা গড়ে নিচ্ছেন। ছোট ছোট দোকানগুলোতে মেয়েদের প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতি। কেউ শাঁখা হাতে পড়ছেন। কেউ খুলছেন। চলছে দরদাম। বীথিকা রানী নামের এক মাঝবয়সী নারী টিনিউজকে বললেন, শাঁখা সব সময় পরা হয় না। তবে এটি আমাদের ঐতিহ্য। পূঁজায় পড়ি। বাসায় পুরনো শাখা আছে জানিয়ে তিনি টিনিউজকে বলেন, পূঁজা উপলক্ষে নতুন শাঁখা কিনেছি। পূঁজার জন্য নানা উপকরণেরও প্রয়োজন হয়। এসব উপকরণের বিপুল সম্ভার এখন বাজারে। প্রতিমা সাজানোর শাড়ি, দেবী দুর্গার মাথার মুকুট, গলায় পরানোর রঙিন হার- কী নেই বাজারগুলোতে? সবই জানান উৎসবের আগমনী ঘোষণা করছে।

 

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ