শীতে ঘাটাইলের ববিতার কুকুরের সাথে মানবতা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ত্রিশ বছর ধরে এই শহরের অলি-গলিতে তার বসবাস। কষ্টের সীমাহীন যন্ত্রণা সয়ে আসছেন তিনি। রাস্তার ধারের দোকান পাটের সামনের খালি জায়গায় তিনি রাত পার করেন। শহরের কুকুরগুলো তার রাতের সাথী। যেখানে মানবতা বিপন্ন সেখানে ববিতার অনন্য ভালোবাসা এই শহরের মানুষগুলোকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পৌষের কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে শীত নিবারণের বস্ত্র নেই তার শরীরে। ক’দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেশি। তাই কুকুরকে নিজের পড়নের কাপড়ের এক অংশ দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে ববিতা। বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে অন্যরা তাাড়িয়ে দিলেও ববিতার কাছে তারা পায় পরম স্নেহ। এলাকায় সে ববিতা পাগুল্লি হিসেবে পরিচিত।
চলচ্চিত্রের ববিতার মতো দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা না থাকলেও এই ববিতার জনপ্রিয়তা রয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে। বাবা মা’র দেয়া নাম কি! এই ববিতা নামই বা কে দিয়েছে, তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে উপজেলার কলেজ মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ডে তাকে দিন রাত ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তার প্রকৃত বয়স কত, কোথা থেকে এসেছে, বাড়ি কোথায় তা সবার অজানা। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। রাতের বেলায় ঘুমানোর জন্য সে বেছে নিয়েছে এনজিও নির্মাণ সংগঠনের বারান্দা।
ববিতা সবার অতি পরিচিত মুখ। দিন মুজুর, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাই ববিতাকে আদর করে নাম ধরে ডাকে। কখনো ডাকে সাড়া দেয় আবার কখনো দেয় না। সবার দেয়া খাবারও সে খায়না। আবার যাকে ভালো লাগে তার কাছ থেকে এটা ওটা চেয়ে খায়। খাবার হোটেলগুলোতে তার জন্য সবসময় দরজা খোলা থাকে। হোটেলগুলোতে ভিতরে কখনো গেলে কি যে আদর আপ্যায়ন তা আর বলে শেষ করা যায় না। কারো সাথে কথা তেমন একটা বলে না। আর যাও দু’একটা বলে তা বোঝা যায় না। তবে কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। সড়কের দু’ধারের দোকানদারগুলো ববিতাকে অনেক ভালোবাসে। কারো দোকানে গেলে দোকান মালিক তার চেয়ার ছেড়ে দেয় বসার জন্য। যতক্ষণ মন চায় দোকানে বসে থাকে। এর ভিতরে চলে আপ্যায়ন। চা এবং পান এ দুটোই সে বেশি ভালোবাসে। ব্যবসায়ীদের ধারণা ববিতা যেদিন দোকানে আসে তাদের বিক্রি নাকি বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী টিনিউজকে জানান, ত্রিশ বছর ধরে সে এই এলাকাতে আছে কোনো দিন তাকে গোসল করতে দেখিনি। অথচ তার কাছে গিয়ে বসলে শরীর থেকে কোনো দূর্গন্ধ আসেনা। ববিতা কোনো দিন অসুস্থও হয় না। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। কলেজ মোড় এলাকার জেমি ফার্মেসির মালিক জামাল হোসেন টিনিউজকে বলেন, তার ভিতরে মনে হয় অলৌকিক কিছু আছে। আমার দোকানের কর্মচারী একদিন চুরি করেছিল যা আমি নিজেও জানতাম না। কোথা থেকে যেন ববিতা এসে সেই কর্মচারীকে জুতা দিয়ে পিটানো শুরু করলো। পরে চুরির বিষয়টি জানতে পারি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ