শিশু বিথী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় কামরুলের মৃত্যুদন্ডাদেশ

শেয়ার করুন

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এক যুবকের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অনাদায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ দন্ডাদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম (২৪) মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া পূর্বপাড়া এলাকার সাবান আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ পিপি নাছিমুল আক্তার নাছিম ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৪ সালের (১৯ মে) দুপুরে মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া পুর্বপাড়া গ্রামের আবুল কালামের কন্যা ৮ বছরের শিশু বিথী আক্তার তার সহপাঠিদের নিয়ে আকড়াচুনা মাঠে খেলা করছিল। এ সময় একই গ্রামের সাবান আলীর বখাটে ছেলে কামরুল ইসলাম বিথীকে ফুঁসলিয়ে আকড়াবোন এলাকায় একটি আনারস বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য শাসিয়ে দেয়। শিশুটি সেখানে কান্না করে এবং তার মা-বাবাকে বলে দিবে বলে জানায়। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে কামরুল শিশুটিকে তখন গলাটিপে হত্যা করে পাশেই একটি ড্রেনে তার লাশ ফেলে দিয়ে জঙ্গল দিয়ে ঢেকে দেয়।
এদিকে বিকেলে শিশু বিথীকে না পেয়ে তার মা-বাবা খোঁজাখুঁজি করে। সন্ধ্যার দিকে ওই গ্রামের বিথীর সহপাঠিরা বিথীর বাবাকে জানায় কামরুল বিথীকে আকড়াবোনের দিকে নিয়ে গেছে। এ ঘটনা জানার পর গ্রামের লোকজন কামরুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে কামরুলকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল বিথীকে ঢাকায় তার এক বোনের কাছে মাইক্রোবাসযোগে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়। পুলিশ তাকে নিয়ে ঢাকার বিভিন্নস্থানে বিথীকে খোঁজাখুঁজি করে। পরে পুলিশ তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে বিথীকে ধর্ষণ করে গলাটিকে হত্যা করে লাশ আনারস বাগানের পাশেই একটি ড্রেনে ফেলে রেখেছে। পরদিন (২০ মে) দুপুরে পুলিশ সেখান থেকে বিথীর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই দিনই বিথীর বাবা আবুল কালাম বাদি হয়ে কামরুল ইসলামকে আসামী করে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামী কামরুল ইসলাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। গ্রেফতারের পর থেকেই কামরুল টাঙ্গাইল জেলহাজতে রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ পিপি নাছিমুল আক্তার নাছিম। আর আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ