শহীদ মিনারে সবার জন্য বিনামূল্যে ইফতার চলছে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য এক মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রিবেনী টাঙ্গাইল এবং বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। রোজার প্রথম দিন থেকেই টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাদের উদ্যোগে বিনামূল্যে সর্বসাধারণের জন্য চলছে ইফতার আয়োজন। এছাড়া প্রতিদিনই ইফতারের আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত পাঠ এবং দেশ ও দশের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয় এখানে। ইফতার শুরুর ঘণ্টা খানেক আগে থেকে এই শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকে রোজাদাররা। দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, ভিখারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যারা সময়ের অভাবে অথবা অর্থাভাবে কিনে ইফতার করার সুযোগ পান না তারা বসে পড়েন এই আয়োজনে।
টাঙ্গাইল শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রিবেনীর সভাপতি বাপ্পি ইসলাম টিনিউজকে বলেন, কাজের তাগিদে যারা বাড়ি যেতে পারেন না অথবা গরীব দুস্থ মানুষ যারা অর্থের অভাবে ইফতার কিনে খেতে পারেন না তাদের কথা চিন্তা করে আমরা গত বছর রোজার সময় থেকে এই ইফতার আয়োজন শুরু করি। এ বছরও রোজার প্রথম দিন থেকেই ইফতার আয়োজন করে আসছি। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ২৫০ থেকে ৩০০ লোক এই ইফতারে অংশগ্রহণ করে থাকেন। ত্রিবেনীর অপর এক সদস্য শামিম আল মামুন টিনিউজকে বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে নেয়া চাঁদায় গড়া নিজস্ব তহবিল থেকে এই ইফতারের খরচ যুগিয়ে থাকি। আমাদের আয়োজনে প্রতিদিনই থাকে সরবত, যেকোনও একটি ফল, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, খেঁজুর ও জিলাপি। এছাড়া সপ্তাহে দুই দিন খিচুড়ি দেয়া হয়।
অপর এক সদস্য বিভুতি ভট্টাচার্য টিনিউজকে বলেন, প্রতিদিন আমরা প্রায় তিনশ’ জনের ইফতার আয়োজন করি। তারপরও মাঝে মধ্যে লোক বেশি হয়ে যায়। দেখা যায় সাইরেন দেয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে অনেক রিকশাওয়ালা একসঙ্গে এসে পড়ে। তারপরও আমরা ম্যানেজ করে নেই। তখন বড় বড় ডিশে ছোলা, মুড়ি, বড়া সব একত্র করে মাখিয়ে পরিবেশন করি। আমাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই মাঝে মধ্যে এখানে এসে ইফতার পরিবেশনে সহায়তা করেন।
কাগমারী এলাকার ফরিদ শহরের নিরালা মোড় এলাকায় চায়ের দোকান করেন। তিনি প্রতিদিন এখানেই ইফতার করেন। তিনি টিনিউজকে বলেন, এখানে ইফতারের ব্যবস্থা থাকায় আমাদের কষ্ট করে বাইরে যেতে হয় না। টাকা দিয়ে খাওয়া লাগে না।
ঘাটাইল এলাকা থেকে টাঙ্গাইল শহরে এসে ভিক্ষা করেন জামিলা বেগম। তিনি টিনিউজকে বলেন, আমার মতন গরীব মাইনসের নিগ্যা (মানুষের জন্য) বাবারা যে ব্যবস্থা করছে তার নিগ্যা দোয়া করি। আল্লা তাগো ব্যাক্কের (সবার) ভালো করুক।
আলোকদিয়া এলাকায় তাঁতের কাজ করা শমসের পারিবারিক প্রয়োজনে শহরে এসেছিলেন। ইফতারের আগে এখানে ইফতারের ব্যবস্থা দেখে বসে পড়েছেন। তিনি টিনিউজকে বলেন, আমি শহরে এসেছিলাম কিছু সদাই কিনতে। ইফতারের সময় হয়ে গেছে, এখন বাড়িতে গিয়েও ইফতার পাবো না। তাই এখানেই বসে পড়লাম।
তারটিয়া এলাকার রিকলাচালক শামিম মিয়া টিনিউজকে বলেন, ইফতারের সময় এই এলাকায় খ্যাপ নিয়া আসলে এখানেই ইফতার করি। এইরকম আয়োজনের ফলে আমাগোর মতন গরীব মাইনষের খুব উপকার হইছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ