লতিফ সিদ্দিকী আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভেতরে ভেতরে

শেয়ার করুন

মাসুদ আব্দুল্লাহ ॥
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এনে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া লতিফ সিদ্দিকী এখনো পরোক্ষভাবে সক্রিয় আছেন রাজনীতিতে। রাজনীতির সকল অঙ্গনেই এখনো রয়েছে তার ঘনিষ্ট যোগাযোগ এবং পদচারণা। সরাসরি দল না করলেও তার নিজ দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সাথে বিশেষ করে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের কালিহাতির নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের নেতাকর্মীরাও অনেকেই যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখেন লতিফ সিদ্দিকীর। একই সাথে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও সামাজিক ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ রাখেন আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া এই নেতা। দিনের অবসর সময়টা জেল জীবনসহ বাকি দিনগুলোর দিন লিপি লিখে গত বছরগুলো কাটিয়েছেন ৮০ বছর বয়সী লতিফ সিদ্দিকী। এর বাইরে প্রয়োজনের বেশি বাসার বাইরে যান না। রাজধানী ঢাকার গুলশানের নিজ বাসাতেই, নিজ কার্যালয়ে বসে সময় কাটান লতিফ সিদ্দিকী।
বিগত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে হজ ও তাবলিগ নিয়ে কটুক্তি করে দেশ-বিদেশে মুসলমান ধর্মালম্বীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। এরই প্রতিক্রিয়ায় তার মন্ত্রীত্ব এবং দলীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পদ হারান। পরে জেলও খাটতে হয় তাকে। লতিফ সিদ্দিকী বসেন তার ঢাকার গুলশানের পাঁচতলা বাড়ির দু’তলায়। সেখানে স্ত্রী, ছেলে এবং ছেলের বউ থাকেন। আছে বেশকয়েকজন কাজের লোক।
তার অফিস ঘর ভর্তি কয়েকশত বই। গত দুই বছরে লতিফ সিদ্দিকী তার জেল জীবনসহ অতীত জীবনের বেশ কিছু পান্ডুলিপি লিখেছেন। যেগুলো সবগুলোই তার হাতে লেখা। সেগুলো বাঁধাই করা হয়েছে, তবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি। লতিফ সিদ্দিকী কম্পিউটার নিজে অপারেট করতে পারেন না। তবে তার সামনে অ্যাপলের কম্পিউটার রয়েছে।
বর্তমান রাজনীতিসহ নিজ নির্বাচনী এলাকার সব খোঁজ খবর রাখেন লতিফ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারে বিয়ে, জন্মদিন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এমনকি মৃত্যু সংক্রান্ত সময়ে ছুটে যান আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এখনো মনে করেন তিনি ধর্মীয় আঘাত দেয়ার মতো কিছু করেননি। তাকে নিয়ে কিছু গণমাধ্যমগুলোতে অতিরঞ্জিত প্রচার হয়েছে বলে তার একাধিক ঘনিষ্টজনকে বলেছেন তিনি। তাই আগামী নির্বাচনে আবারও লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভেতরে ভেতরে। দল মনোনয়ন না দিলেও স্বতন্ত্রভাবেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন এক সময়ের টাঙ্গাইলের হর্তাকর্তা হিসাবে পরিচিত সিদ্দিকী পরিবারের এই অন্যতম সদস্য।
এসব বিষয়ে কথা বললে লতিফ সিদ্দিকী টিনিউজকে এখনই কিছু বলবেন না বলে জানান। তবে তিনি বলেছেন, আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পারবে। সময় হলেই সব জানতে পারবেন।
তবে লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকার অন্যতম অনুসারি এবং ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত টাঙ্গাইলের কালিহাতির উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ তোতা টিনিউজকে বলেন, উনি (লতিফ সিদ্দিকী) প্রায় প্রতি সপ্তাহে এলাকায় আসেন। তার ভক্ত-অনুরাগী, কর্মীসমর্থকদের সাথে কথা বলেন নিয়মিতই। লতিফ সিদ্দিকী এলাকার অভিভাবক, দেশের গুণীজন। তিনি মনে প্রাণে সবসময়ই আওয়ামী লীগে আছেন। তিনি সবসময়ই বঙ্গবন্ধু ও নেত্রী শেখ হাসিনার অনুসারি। তার নেত্রী দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের বাইরে লতিফ সিদ্দিকী কিছু করেন না।
দল মনোনয়ন না দিলেও লতিফ সিদ্দিকী আগামীতে নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে আব্দুল মজিদ তোতা টিনিউজকে বলেন, সেটা সময়ই বলে দিবে। দলীয় কর্মকান্ডের জন্যও দরকারে তারা লতিফ সিদ্দিকীর পরামর্শ নেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ