রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশেই রয়েছে- ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু শুধু বাংলাদেশ নয়, পাশ্ববর্তী সকল দেশের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য ও বাসস্থান দিয়ে খুবই মহৎ একটি কাজ করেছে। ভারত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পাশে নেই এই ধারনাটি ভুল। বাংলাদেশ ও মায়ানমার দুই দেশেই ভারতের বন্ধু প্রতিম দেশ। এজন্য শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশের সব সময় পাশে আছে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রতাবর্তনে ভারত সরকার কাজ করছে। এজন্য রাখাইন স্ট্যাটে তাদের আবাসনের জন্য ভারত সরকার ঘর তৈরী করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য এক হাজার মেট্রিক টন ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে ভারত সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তির বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছেন। আশা করা যায় বাংলাদেশের এ সরকারের সময়েই তিস্তা চুক্তির সমস্যার সমাধান হবে।
বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে প্রাণহানী বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৃহৎ একটি সীমান্ত রয়েছে তাতে নানা কারণে অনেক সময় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে থাকে। আমরা চলতি বছরে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি-বিএসএফ প্রধানদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় দেশের সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে সম্পন্ন হবে তা এদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারী নবনীতা চক্রবতী, প্রেস এটাসিভ রঞ্জন মন্ডল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত কুমুদিনী কমপ্লেক্স চত্বরে পৌছালে সেখানে তাকে স্বাগত জানান কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালে পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার, সহকারী প্রশাসক সৈয়দ হায়দার আলী প্রমুখ।
পরে তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ নাসিং স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের মনোজ্ঞ শারীরিক কসরত উপভোগ করেন। পরে সেখানে তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তরুন প্রজন্মকে যা অনুপ্রাণিত করবেন বলে তিনি আশা করেন। এ সময় তিনি কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ভূয়ষী প্রশংসা করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ