রাজনৈতিক এতিম ও পথহারা পাখি দিয়ে আন্দোলন হয় না – ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। সরকারের উচিত তাদের নিবন্ধন বাতিল করা। জনগণের আদালত বড় আদালত। যেহেতু তারা একটি বড় রাজনৈতিক দল, এ কারণে তাদের ভুলের জন্য জনগণের আদালত আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তাদের সমুচিত শিক্ষা দিবে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে তারা ২৪ জনকে হত্যা করে জাতির ওপর কলংকের কালিমা লেপন করেছিল। এই বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি কলংক মুক্ত হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের বিচারের মধ্যমে আবার প্রমানিত হয়েছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল, তারা জঙ্গীবাদ, নাশকতাকে প্ররোচনা দেয়, মদত দেয়, এবং তারা এই সন্ত্রসী র্কাক্রমকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ক্ষমতায় আসার জন্য বারবার ব্যবহার করেছে। সমনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, সরকার দায়িত্বে থেকে নির্বাচন করবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী নির্বাচনকে সহযোগিতা না করে বিএনপি এবং কিছু রাজনৈতিক এতিম ও পথহারা পাখি একত্র হয়েছে। যাদের কোন জনভিত্তি নেই। মানুষের সাথে সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক অঙ্গণে ও জনগনের কাছে তারা অতিত।
শনিবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক এতিমরা একত্রিত হয়ে বলছে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, পদত্যাগ করতে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি দিতে হবে। কোন কিছু হবে না। বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। তারা যতই আন্দোলনের ডাক দিক এই যুক্তফ্রন্ট ও এতিম দিয়ে আন্দোলন হয়না, আন্দোলনে আমরা ভীত নই। শুন্য যোগ শুন্য, শুন্য পুরোন শুন্য, শুন্যই হয়। তারা বিগত দিনের রাজনীতিবিদ তাদের জনগনের মধ্যে কোন ভিত্তি নেই। আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র¿ সবসময়ই থাকে, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই এই ষড়যন্ত্র চলে আসছে, এখনো ষড়যন্ত্র¿ আছে, আর কোন ষড়যন্ত্র¿ আমরা হতে দেব না।
আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমাদের যারা সৎ কর্মী, যারা নিষ্ঠাবান, যে সকল এমপিরা ভাল কাজ করেছে, যাদের প্রতি জনগনের আস্থা আছে, আমাদের দলের সভানেত্রী সুপষ্টভাবে বলেছেন, উনি কোন এমপি, মন্ত্রী কাওকে দেখবেন না, ব্যাক্তিগত সর্ম্পক দেখবেন না, প্রয়োজনে উনি নিষ্ঠুরভাবে এবার মনোনয়ন ঠিক করবেন এবং যারা জনপ্রিয়, যারা জনগনের ভোটে পাস করবে, তাদেরকেই জননেত্রী দলের মনোনয়ন দিবেন। মহাজোট বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা আমাদের নাই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কোন দল আসলে আমাদের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল দলকে সঙ্গে নিয়ে জনগনের ঔক্য গড়তে চাই। এই জনগনের ঔক্য প্রক্রিয়ায় আমরা চেষ্টা করবো আরো বাড়ানোর জন্য।
বর্তমান সরকার উন্নয়নের যে মহাসড়কে উঠেছে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভের মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যতে তা আরো বেগবান ও গতিশীল হবে। আগামী দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রতামুক্ত সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ হবে। এর আগে তিনি কাকুয়া ইউনিয়নে জননেতা আব্দুল মান্নান ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর ও শেখ হাসিনা রাস্তার শুভ উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে জনসভায় যোগ দেন।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ জনসভায় যোগ দেয়। তারা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে গেয়ে সভাস্থলে হাজির হয়। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী আগামী সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি ছানোয়ার হোসেনকে নৌকা মার্কায় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
কাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার আজাদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, ছানোয়ার হোসেন এমপি, মনোয়ারা বেগম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, নাহার আহমেদ, শাহজাহান আনসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা, কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ