Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

রমজানে মুড়ির গ্রাম নারান্দিয়ায় ব্যস্ত মুড়ি ভাজার কারিগররা

শেয়ার করুন

হাসান শিকদার ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এ গ্রামগুলোতে সারাবছরই হাতে ভাজা বিষমুক্ত মুড়ি তৈরী হয়। রমজান মাসে এ এলাকার মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুন। চলতি রমজান মাসে মুড়ির চাহিদা পূরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে পাঁচ গ্রামের মুড়ি ভাজার কারিগররা।
মানবদেহের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধতিতে হাতে ভাজা এসব মুড়ির চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পুঁজির অভাবে মুড়ির চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে কারিগরা। তাদেরকে যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে ঋণ সুবিধা দেয়া যায় তাহলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এ পেশার সাথে জড়িতরা। রমজানে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে মুড়ি। ইফতারের আইটেমে যত উপাদানই থাকুক না কেন সাদা ফুরফুরে মুড়ি ছাড়া অতৃপ্তি যেন থেকে যায় রোজাদারদের মন। তবে সে মুড়ি হালের মেশিনে বানানো ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রিত বিস্বাদ মুড়ি নয়। সম্পূর্ণ দেশি পদ্ধতিতে চুলায় মাটির খোলায় লবন পানি মেশানো চাল দিয়ে গরম বালুতে তৈরি সম্পূর্ন হাতে ভাঁজা মুড়ি।
আজ থেকে বহু বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের দুই-একটি পরিবার স্বল্প পরিসরে শুরু করে মুড়ি ভাঁজা। হাতে ভাঁজা মুড়ি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হতে থাকে এসব পরিবার। তাদের অনুসরণ করে দৌলতপুরসহ নারান্দিয়া, মাইস্তা, লক্ষী নারান্দিয়া, নগরবাড়ি গ্রামে শতশত পরিবার বানিজ্যিকভাবে মুড়ি ভাজা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে এ গ্রামগুলো মুড়ির গ্রাম নামে লোকমুখে পরিচিত পায়। সারা বছরই মুড়ি ভাজা হলেও রমজানকে ঘিরে এ চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে গেছে। এসব গ্রামগুলোর প্রতিটি ঘরেই এখন দিন-রাত চলছে মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা। প্রতিদিন প্রতিটি পরিবার ৪০ থেকে ৪৫ কেজি মুড়ি ভাজে বলে জানান মুড়ি তৈরির কারিগররা।
রমজানকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা এখান থেকে মুড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের প্রতিদিনের তৈরী প্রায় ৩শ’ মন মুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তবে এখানে গড়ে উঠেনি মুড়ির নির্দিষ্ট বাজার। তাই পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব মুড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার মুড়ির চাহিদা প্রচুর বলে জানালেন পাইকাররা।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম টিনিউজকে বলেন, রমজান ছাড়াও সারা বছরই এই এলাকার মুড়ির ব্যাপক বানিজ্যিক চাহিদা রয়েছে। মুড়ি ভাজাই এ এলাকার মানুষের প্রধান পেশা। মুড়ি ভাজার সাথে সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে কালিহাতী উপজেলা পরিষদ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ