রমজানে টাঙ্গাইলে জনজীবন বদলে গেছে ॥ খাওয়া ঘুম জেগে ওঠা সবই নতুন নিয়মে

শেয়ার করুন

জাহিদ হাসান ॥
সবসময় যেমন, এখন তার উল্টো। অনেক কিছ্ইু বদলে গেছে। প্রতিদিনের জীবনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ঘড়ির কাঁটা ঠিক থাকলেও, খাওয়া ঘুম জেগে ওঠা- সব হচ্ছে নতুন নিয়মে। হ্যাঁ, রোজনামচা বদলে দিয়েছে রমজান মাস। আরবি এই মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে রোজা। এরই মধ্যে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সবার মধ্যেই। সেই সাথে টাঙ্গাইল শহরের চেহারাও বদলে গেছে। জনজীবনে প্রায় সবকিছু বদলে গেলেও বিদ্যুতের লোডশেডিং থেকে মুক্ত হতে পারেনি টাঙ্গাইলবাসী।
এখন ভোর রাতে শব্দ করে বেজে উঠছে এ্যালার্ম দেয়া ঘড়ি বা মোবাইল ফোন। প্রায় প্রতিটি ঘরের বাতি জ্বলে উঠছে। দিনের মতো সরব হয়ে উঠছে চারপাশ। পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা ছোটদের ঘুম থেকে ডেকে তুলছেন। চোখ, মুখ ধুয়ে একসঙ্গে বসে সেহরি খাচ্ছেন। এ সময় টাঙ্গাইলের অনেক হোটেল, রেস্তরাঁ খোলা থাকছে। সেগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়।পরির্বতন হয়েছে খাদ্যাভাসেও।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আশপাশের কেউ উঠতে ব্যর্থ হচ্ছেন কিনা- সে খবরও নেয়া শুরু হয়ে গেছে প্রথম দিন থেকেই। এক বাসার লোকজন অন্য বাসার সামনে গিয়ে ডোরবেল বাজিয়েছেন। ডেকে তুলেছেন। এ কাজে সবচেয়ে এগিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে রাস্তায় নামেন তারা। পাড়া-মহল্লার ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে সুরেলা কণ্ঠে রোজদারদের ডাকেন। ঘুম থেকে ওঠার আহ্বান জানান।
রোজার প্রথম দিন থেকেই বদলে গেছে সরকারী অফিস, আদালতের সময়সূচী। এখন সরকারী, আধা-সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সকাল ৯টায় শুরু হয়ে চলছে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো সময়সূচী নির্ধারণ করে নিয়েছেন। কর্মঘণ্টা কমে আসায় সর্বত্রই একটা তড়িঘড়ি অবস্থা। অল্প সময়ের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তা ঘাটেও ব্যাপক ছোটাছুটি দৃশ্যমান হচ্ছে। একই কারণে বেড়েছে যানজট। দুপুরের পর থেকেই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় সবার মধ্যেই। ইফতারের আগে আগে বাড়ি ফিরতে চান সবাই। যানজটে নাকাল হলেও, বাড়ি ফেরার আনন্দের কাছে ম্লান হয়ে যায় ভোগান্তি। আগে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার কথা যারা ভাবতেও পারতেন না, এখন তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন। এক টেবিলে বসে ইফতার সারছেন। মুসলিমরাই নয় শুধু, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও মুখরোচক খাবার সামনে নিয়ে বসছেন। মজা করে খাচ্ছেন। এদিকে, ইফতারের আগে যেসব রাস্তায় যানজট লেগে থাকে ইফতারের সময় সেগুলো জনশূন্য হয়ে যায়। প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ি তেমন দেখা যায় না। ফুটপাথ ফাঁকা পড়ে থাকে। এরই মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ফুটপাত ভেঙ্গে দিয়েছেন। ইফতারের পর ধর্মপ্রাণ মানুষ তারাবি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবারও শহরের প্রায় সব মসজিদে ব্যবস্থা থাকছে খতমে তারাবির। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন বাড়িতে, মার্কেটের ছাদে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে সন্ধ্যার পর টাঙ্গাইল শহরের রাস্তা ঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। অবশ্য এই ফাঁকা বেশী দিন হয়তো থাকবে না। ১০ রমজানের পর থেকেই ঈদের হাওয়া বইতে শুরু করবে সবার মধ্যেই।
এদিকে, রোজা মানেই ঈদের প্রস্তুতি। কেনাকাটার কাজ। মোটামুটি প্রথম রোজা থেকেই শুরু হয়ে গেছে কেনাকাটা। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকবে। মধ্যরাত পর্যন্ত সরব থাকবে মার্কেট, শপিংমল এমনকি ফুটপাথ। সবমিলিয়ে বদলে যাওয়া দৃশ্যপট। আরও বদলে যাওয়ার অপেক্ষায় এখন টাঙ্গাইল শহর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ