রমজানে টাঙ্গাইলের বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুর বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

ফাহাদ শাওন ॥
পচাঁ ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুরে সয়লাব হয়ে গেছে টাঙ্গাইলের রমজানের বাজার। এক বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া খেঁজুর দেদারসে বিক্রি হচ্ছে টাঙ্গাইলসহ জেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে। অতি মুনাফার লোভে নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ এসব খেঁজুর অবাধে বাজারজাত করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, চলতি রমজানে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুর জব্দ হয়নি। গত বছর রমজানের বাজারে বিভিন্ন ফলমুলে ফরমালিন ধরা পড়ায় বেশ ঘটা করেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল। জরিমানা গুনার ভয়ে ওই সময় অনেক খেঁজুর ব্যবসায়ী তাদের গুদামের খেঁজুর আর বাজারে ছাড়েনি। তাদের অনেকেই সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুর এখন বাজারে ছাড়ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পঁচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুরে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। প্যাকেট খেঁজুরের পাশাপাশি ঝুড়িতে বা কার্টুনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব খেঁজুরও। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব খেঁজুরের উপর উড়ছে মাছি। তবে দোকানিরা খেঁজুরগুলোকে বেশির ভাগ সময় পাকিস্তানি খেঁজুর বলেই বিক্রি করে থাকেন। বেশ ঘনকালো ও গলে যাওয়ার মতই লাগে এসব খেঁজুর। এদিকে গত বছর খেঁজুরে ফরমালিন মেশানোর খবরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। ফলে সেসময় খেঁজুর বিক্রিতে বেশ ভাটা পড়ে। গত বছর আমদানি করা বিভিন্ন ব্রান্ডের খেঁজুর পরীক্ষা করে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন বা ক্যামিকেল প্রাপ্তির খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো জনমনে।
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইফতারে খেঁজুর একটা অপরিহার্য খাদ্যপণ্য। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আহার হিসেবে খেঁজুরকে পূণ্যতার গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। ভোক্তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে পঁচে যাওয়া, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুর। ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেঁজুর সাধারণত এক বছরের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। তবুও অসাধু ব্যবসায়ীরা এটাতে ক্যামিকেল যুক্ত করে বাজারে চালিয়ে দিচ্ছে।
জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ খেঁজুরগুলোকে বাজারে চালানোর জন্য ব্যবসায়ীরা গুদামের ভিতরেই নতুন মোড়ক লাগিয়ে নিচ্ছে। মোড়কের গায়ে লাগাচ্ছে মেয়াদযুক্ত সিল। সুত্রমতে, গত বছর মোট ২৮ হাজার টন খেঁজুর আমদানি করা হয়েছিল। দেশে বার্ষিক খেঁজুরের চাহিদা ১৫ হাজার টন থাকলেও খোদ রোজাতেই তার চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার টনে। সে হিসেবে ২০১৬ সালের আমদানিকৃত খেঁজুরের অর্ধেকই অবিক্রিত রয়ে যায়। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসে খেঁজুর আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টন। চাহিদার চাইতে বেশি খেঁজুর এবার মজুদ আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে পূর্বের মজুদকৃত খেঁজুরের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ।
প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান মাসে টাঙ্গাইলে ভেজাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র টিনিউজকে জানান, যখন-তখন, যেকোনো সময় এবং যেকোনো জায়গায় আকস্মিক অভিযান চলবে। রমজান মাসজুড়ে বিশেষ অভিযান চলানো হবে। রোজাদাররা সচরাচর যেসব খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে থাকেন সেগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ