Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

যদি বর্ষে মাঘের শেষ/ধন্য রাজার পুণ্য দেশ

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
প্রাচীন আমল থেকেই দেশে খনার বচনের প্রচলন রয়েছে। আগে কৃষি কাজে অনেকেই খনার বচনের ওপর নির্ভর করতেন। খনার এমন একটি বচন হলো ‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ। বচনটি গ্রাম বাংলায় সবার কাছে খুবই পরিচিত। এই বচনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে মাঘ মাসের শেষের বৃষ্টি হলে দেশের কল্যাণ হয়।
আজ সোমবার ২৮ মাঘ (১১ ফেব্রুয়ারি)। মাস শেষ হতে আর মাত্র একদিন। এরই মধ্যে আকাশে মেঘের আনাগোনা। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। তবে এই বৃষ্টিতে খনার বচনের ন্যায় কল্যাণ বয়ে আনবে কিনা তা ভবিষ্যতের বিষয় হলেও বৃষ্টিতে কৃষি ও কৃষিকাজের জন্য অনেকখানি উপকারই হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের রাস্তাঘাট অলিগলি ধুলায় ধূসর হয়ে পড়েছে। তবে শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ছিল টাঙ্গাইলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।
আবহাওয়া অফিস বলছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। আবহাওয়ার এই প্রভাবে অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলে বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে হালকা এবং মাঝারি মাপের বৃষ্টিপাত হয়েছে। টাঙ্গাইলে সামান্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বলে তারা জানায়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত না থাকায় টাঙ্গাইলে ধুলা দূষণের প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ধুলা দূষণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, এলার্জি, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জনদুর্ভোগের পাশাপাশি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা হচ্ছে তেমনি আর্থিক ও পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। তারা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে টাঙ্গাইলে ধুলা দূষণের প্রকোপ অত্যন্ত বেড়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিকভাবে ধুলা দূষণজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ ভয়াবহ ধুলা দূষণের শিকার হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে ধুলা দূষণের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়ে যায়। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে থাকে। এ অবস্থায় শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক স্থানে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যায়। সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। সেই সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া ছিলই। বৃষ্টি আর ঠান্ডা অনেক সকাল থেকে কাজে যেতে পারেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই বৃষ্টিপাতে ফসলের জন্য কিছুটা হলে উপকারী হয়েছে। এ কারণে পথচারীদের চলাচল করতে বিশেষ করে চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কেন্দ্রে সময়মতো যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে এদিকে আবাদকৃত গমের উপকার হলেও আলুর পচন রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। অন্যদিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জ্বর, সর্দিসহ ডিসেন্ট্রি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
হঠাৎ করে আবারও ঠান্ডায় জনজীবনে স্থবিরতা বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া। রাতে কনকনে ঠান্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জন্য মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এই ঠান্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছে শিশু আর বৃদ্ধরা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ