মুত্তিযোদ্ধার সনদ ছেঁড়ায় তদন্ত কমিটি গঠন ॥ গ্রেফতারের দাবি কাদের সিদ্দিকী

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগের প্রধান সহযোগি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ কায়সারের বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসারত মুক্তিযোদ্ধার ব্যবস্থাপত্রের ফাইল থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদের ফটোকপি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় সোমবার (২৫ নভেম্বর) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী বৃহস্পতিবারের (২৮ নভেম্বর) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান ভূঁইয়া তার মাজা ও পায়ের জয়েন্টের হাড় ফেটে যাওয়ায় গত (১৭ নভেম্বর) চিকিৎসা নিতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মুক্তিযোদ্ধা বিছানায় ভর্তি হন। এরপর গত (২১ নভেম্বর) হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগের প্রধান ও সহযোগি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ কায়সার রোগীকে চিকিৎসা দিতে আসেন। এ সময় রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ফাইলে রাখা মুক্তিযোদ্ধা শাজাহানের মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেখে তিনি নার্সকে বলেন, এই গুরুত্বপুর্ন সনদ এখানে কেন। এই সনদ কি রোগির চিকিৎসা করবে, না ডাক্তার করবে। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই আমরা মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করি। এই বলে তিনি সনদটি ফাইল থেকে টান দিয়ে খুলে রোগীর বিছানায় রাখেন। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্বজনরা ক্ষুব্দ হন। এ ঘটনায় ওই ডাক্তারের বিচারের দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান ভূইয়ার জামাতা আল আমিন টিনিউজকে বলেন, আমার শ্বশুর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেখিয়েই ভর্তি করানো হয় এবং রোগির ফাইলে তা রাখা হয়।
এদিকে সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম হাসপাতালে চিকিৎসারত মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতে যান। এ সময় তিনি ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বিছানায় চিকিৎসারত মুক্তিযোদ্ধা শাজাহানের সনদ দেখেই বিরক্ত হয়েই ওই ডাক্তার তা ছিড়ে ফেলেন। এট অমার্জনীয় অপরাধ। এই অপরাধের জন্য তাকে গ্রেফতার করে তার ডাক্তারী সনদ কেড়ে নেয়া হোক। চিকিৎসক শহীদুল্লাহ কায়সারের এতো সাহস হলো কী করে- তিনি মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়েন? আমি মনে করি, এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান যথাযথ নিয়মে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসার বদলে চরম অপমান করেছেন।
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র টিনিউজকে বলেন, হাসপাতালের সহকারি পরিচালক সদর উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী বৃহস্পতিবারের (২৮ নভেম্বর) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ব্যপারে ডাক্তার শহীদুল্লাহ কায়সার টিনিউজকে বলেন, পেশাগত, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য একটি চক্র সামজিকভাবে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করতে তিলকে তাল করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ