Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মুক্তিযোদ্ধা হাসান হত্যায় পিতা-পুত্র রিমান্ডে ॥ নারীর জবানবন্দি

শেয়ার করুন

আদালত সংবাদদাতা ॥
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য টাঙ্গাইল জজ কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোহাম্মদ হাসান আলী রেজাকে হত্যার ঘটনায় এক নারী, তার স্বামী ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে ওই নারী সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই আদালত ওই নারীর স্বামী ও ছেলেকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ তাদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর (বটতলা) এলাকার কল্পনা রানী সরকার (৪০)। তার স্বামী তপন কুমার সরকার (৪৯) ও ছেলে তন্ময় সরকার (১৯)। রোববার (১৪ জুলাই) গভীর রাতে নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহম্মেদ টিনিউজকে বলেন, এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া কল্পনা রানী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া তার স্বামী ও ছেলেকে পুলিশ ৭দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার (এসআই) ওয়াজেদ আলী টিনিউজকে বলেন, এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রোববার (১৪ জুলাই) রাতে শহরের আকুরটাকুর মুসলিম পাড়া থেকে তপন কুমার সরকার, তার স্ত্রী কল্পনা রানী ও তার ছেলে তন্ময় সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকালে নিখোঁজ হওয়ার আগে হাসান আলী রেজার মুঠোফোনে চারবার কথা হয় ওই নারীর। এরই সূত্র ধরে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের অপর একটি সূত্র টিনিউজকে জানায়, পুলিশ তদন্ত করে দেখেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি মুঠোফোন নম্বরে চারবার কথা বলেন ওই আইনজীবী। সর্বশেষ কথা বলার সময় তার অবস্থান যে এলাকায় ছিল তার কাছেই নদীতে লাশ পাওয়া যায়। এতে পুলিশ ধারণা করেন, আশপাশের কোনো বাড়িতে তাকে হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলা হয়েছে। তবে তাকে কেন নিখোঁজের পর হত্যা করা হয়? এ বিষয়ে পুলিশ নারী ঘটিত বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত কাজ করছে।

এদিকে এডভোকেট হাসান আলী রেজার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সোমবার (১৫ জুলাই) সকালেও প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেন আইনজীবীরা। আদালত চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা এডভোকেট বার সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান আলো। আইনজীবীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বার সমিতির সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলাম ও ফায়েকুজ্জামান নাজিব, জিপি আনন্দ মোহন আর্য্য এবং বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈদুল ইসলাম শিশির। পরে একই দাবিতে তারা টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই সাথে সোমবার (১৫ জুলাই) থেকে তিনদিন কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি শুরু করেন আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী রেজা গত (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া নিজ বাসা থেকে চা খেতে বাইরে বের হয়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ব্যাপারে গত (৯ জুলাই) তার ছেলে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর গত (১৩ জুলাই) দুপুরে লৌহজং নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত রোববার (১৪ জুলাই) ঘাটাইল উপজেলার বাইতাইল দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বাদ যোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ