মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের স্ত্রী ও মেয়ে তাদের বাড়ির ভবন নির্মান করতে গিয়ে ‘খান পরিবারের’ ইন্ধনে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শহরের দক্ষিণ কলেজপাড়া এলাকায় ফারুক আহমদের পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করুক তা খান পরিবার চাচ্ছে না। তাই নানাভাবে তাদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। আশেপাশের প্রতিবেশীদের দিয়ে খান পরিবার তাদের ভবন নির্মানে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারুক আহমেদের মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুন লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ফারজানা আহমেদ আরও বলেন, তার বাবাকে হত্যার পর তারা সাধারণ নাগরিকের মতো জীবনযাপন করার চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু তার বাবার হত্যার দায়ে অভিযুক্ত খান পরিবার এখনো তাদের পিছু ছাড়েনি। গত আগস্ট মাসে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করে সকল নিয়মকানুন মেনে তারা শহরের দক্ষিন কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন। কাজ শুরু করার পর থেকেই তাদের উপর আশেপাশের প্রতিবেশী দিয়ে খান পরিবার নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। তাদের প্রতিবেশী আইনজীবী বজলুর রহমান এবং তার স্ত্রী-সন্তান নানাভাবে বাঁধার সৃষ্টি করছেন। ভবন নির্মান কাজ চলাকালে বাড়ির পানি ছেড়ে দিয়ে প্রতিনিয়ত নানাভাবে কাজের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তারা নানা রকম হুমকি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তাদের অশ্লীল গালাগালি এবং বাজে আচরণে মানুষিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছেন বলে ফারজানা আহমেদ অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে তারা পৌরসভার মেয়রের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এক সপ্তাহেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি ফারুক আহমদের হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলকারিরাও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা আহমেদের মা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্ত চলাকালে বিগত ২০১৪ সালের (১১ আগস্ট) সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনদফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের (২৭ আগস্ট) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামী মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের (২৪ আগস্ট)। তিনি দশদিনের রিমান্ড শেষে (৫ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উভয় আসামীর জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকা-ে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এই এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকান্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়। এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তদানিন্তন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন। বিগত ২০১৭ সালের (৬ সেপ্টেম্বর) আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার সাক্ষীগ্রহণ চলছে।
মামলার প্রধান আসামী আমানুর রহমান খান রানা গত জুলাই মাসে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার অপর তিন ভাই এখনো পলাতক রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ